২৯ অক্টোবর ২০২০

লকডাউনে শান্তর অনুভূতি

নাজমুল হোসেন শান্ত - ছবি : নয়া দিগন্ত

শ্রীলঙ্কা সফর উপলক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের স্কিল ক্যাম্প। সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও চলছে পুরোদমে অনুশীলন। অনুশীলন শেষে বৃহস্পতিবার কথা বলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যার বেশিরভাগ জুড়েই থাকল লকডাউনে থাকা দিনলিপি। ইতিবাচক-নেতিবাচক সব দিকই বললেন তিনি।

লকডাউনের সময়টা কেমন ছিল, এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘লকডাউনটা কষ্টকর ছিল। কারণ ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর থেকে এরকম লম্বা ব্রেক কখনোই পাইনি। বাসার মধ্যে এতদিন থাকা মাঠ ছাড়া, অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু ইতিবাচক দিক হলো অনেকদিন পর আবার মাঠে ফিরতে পারছি, ভালো লাগছে।’

লকডাউনের সময় বাসায় থাকা। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম। এর বাইরে অবশ্য ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে জিম করেছেন শরীর ফিট রাখতে। শান্তও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এই সময়টাতে নতুন এক উপলব্ধি হয়েছে তার। আর সেটা হলো চিন্তা-ভাবনা করার। যার মাধ্যমে বের হয়ে এসেছে নতুন কিছু।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লকডাউনে ইতিবাচক কী ছিল- অতীতে যে ভুলগুলো ছিল বা অতীতে যেসব আমি ভালো করেছি ওসব নিয়ে চিন্তা করার খুব ভালো একটা সুযোগ ছিল। যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি। আমি মনে করি সামনে যদি সুযোগ পাই তাহলে এই অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগবে। লকডাউনে ভালো বা খারাপ খেলা যেটাই বলি নিজের খেলাগুলো নিয়ে অ্যানালাইসিস করতে পেরেছি। যেটা আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে এবং সামনে সুযোগ পেলে ভালো কিছু হবে মনে করি।’

দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে। এখন দ্রুত খেলার সাথে মানিয়ে নেয়াটা কঠিন। তবে শান্ত মনে করেন তা অসম্ভব না। যদিও সময় লাগবে। তার মতে, ‘আমার মনে হয় অবশ্যই কঠিন। প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের জন্য। যেহেতু এখন মাঠে এসে সবাই মিলে প্রস্তুতি নিচ্ছে, নেটে ব্যাটিং করছে। আমার মনে হয় মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকলে আবারো আগের ছন্দ ফিরে পাবো। কিন্তু অবশ্যই কঠিন। এখন অনুশীলনে চেষ্টা করছি আগের ছন্দটা ফিরে পাওয়ার।’

সব ক্রিকেটারই প্র্যাকটিস শেষে হোটেলে চলে যান। যেখানে আগের মতো আড্ডার সুযোগ নেই। কার্যত আইসোলেশনের মতোই। ফলে শান্তর কাছে বিষয়টি একটু অন্যরকমই, একাকী। আবার কোভিড-১৯ টেস্টের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বললেন তিনি। এই টেস্ট করাতে বেশ অস্বস্তি লাগে।

তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্য অনেক কঠিন। দুই দিন পর পর করোনা টেস্ট- এই জিনিসটা একটু অস্বস্তিকর লাগে। নাকের ভেতর কিট দেয়া, পরীক্ষা করা, সব মিলিয়ে অস্বস্তিকরই। আর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কারো ভালো লাগে না। এত সিকিউরিটির মধ্যে থাকা ভালো অনুভব করি না। কিন্তু আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছি এবং এভাবেই অনুশীলন করতে হবে, খেলাধুলা করতে হবে। মানসিকভাবে এভাবে নিয়ে নিয়েছি। ধীরে ধীরে উপভোগ করছি।’

দলে জায়গা পেলে ভালো খেলতে মুখিয়ে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নিজের শেষ কয়েকটি ইনিংস নিয়ে তিনি তৃপ্ত। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় লাস্ট দুই-তিনটা ইনিংস ভালো ব্যাটিং হয়েছে। সবচেয়ে যে জিনিসটা চাই তা হলো, ইনিংসগুলো যেন লম্বা হয়। আর নিয়মিত পারফরম্যান্স যেন করতে পারি। আমার ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেট হওয়া, ইনিংসগুলো বড় করা।’


আরো সংবাদ