২৯ অক্টোবর ২০২০

লঙ্কা সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না

বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন সুজন - ছবি : নয়া দিগন্ত

দিন যত গড়াচ্ছে, অনিশ্চিয়তা ততই যেন বাড়ছে। আসছে না শ্রীলঙ্কার কোনো সিদ্ধান্ত, অথচ অপেক্ষায় বিসিবি। চলছে টাইগারদের অনুশীলন। তবে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সফরের কিছুটা অগ্রগতি জানিয়েছেন বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন সুজন। যদিও অনেক বিষয়ই খোলাসা করেননি তিনি। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশের লঙ্কা সফর যে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তা অনুমেয়।

ইতোমধ্যে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশকে একটি হেলথ গাইড লাইন পাঠিয়েছিল। যেখানে আগের মতোই কঠিন শর্ত ছিল। যা মেনে নেয়া কঠিন। বিসিবি এই গাইড লাইন আরো মসৃণ করার কথা বলেছে। বিষয়টি ভেবে দেখছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। বুধবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে সিইও নিজামউদ্দিন সুজন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে বোর্ড সভাপতি আপনাদের মাধ্যমে আমাদের অবস্থানটা পরিষ্কার করেছেন। পরবর্তীতে আমরা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাই, তারা যে হেলথ গাইডলাইন পাঠিয়েছিল সেখানে কিছু রেস্ট্রিকশন। সেগুলো যদি তারা কন্টিনিউ করে তাহলে আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে ট্যুরটা। এ বিষয়গুলো আমাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে যোগাযোগ হয়েছে। সর্বশেষ যে পরিস্থিতি সেটা হচ্ছে আমরা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় জানিয়েছি তাদের।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ জিনিসগুলো জানার পর তারা বলেছে তাদের যে কোভিড-১৯ টাস্ক ফোর্স আছে বা অন্যান্য যে অথরিটি আছে তাদের সাথে কথা বলে যে হেলথ গাইডলাইন তা কতটুকু শিথিল করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি খুব গুরুতই তারা আমারে বিষয়গুলো নিয়ে জানাবে।’

সূচী অনুযায়ী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে নির্দিষ্ট তারিখে যাওয়াটা সম্ভব না। এ প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ক্লিয়ারেন্স পাইনি। তারপরও আমরা ২৭ তারিখকে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, সবকিছু এগোচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি একটু চ্যালেঞ্জিং হবে ২৭ তারিখে ভ্রমণ করা। ভিসা ও অন্যান্য জটিলতাতো রয়েছেই। সেক্ষেত্রে কোনো এডজাস্টমেন্টের প্রয়োজন হলে আমরা করে নিব।’

ইংল্যান্ড বা অন্য যেসব জায়গায় ক্রিকেট শুরু হয়েছে সেসব জায়গার সাথে শ্রীলঙ্কার গাইডলাইনের মূল পার্থক্যটা কি ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছিনা। আমাদের জন্য যেটা সহনীয় পর্যায়ের বা আমরা যে জিনিসটা চাচ্ছি সে বিষয়গুলো আমরা তাদের জানিয়েছি। যেহেতু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড কিছু বলছেনা, আমি মনে করি এটা আমদের মধ্যে থাকুক। কোন ডিটেইল আমরা পাবলিকলি বলতে চাচ্ছিনা।’

‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ও বিসিবি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে কমিটেড যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা অংশ নিব এবং এটা আমরা এগিয়ে নিতে চাই। সেক্ষেত্রে আমাদের দুই বোর্ডেরই চেষ্টা চলছে সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে।’

টাইমিংয়ের সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুনরায় সুজন বলেন, ‘আমি আবারও বলছি কোন এডজাস্টের প্রয়োজন হলে আমরা করবো। সে ব্যাপারে আমাদের প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট আমারে ফিডব্যাকটা যেন দেয়। সেভাবেই আমরা প্ল্যান করতে পারবো। পুরো বিষয়টি কিন্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের উপর নির্ভর করছে না। অনেকটা তাদের সরকার ও কোভিড-১৯ টাস্ক ফোর্সের সিদ্ধান্তের উপরও নির্ভর করছে। আমরা যতটা জেনেছি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের সাথে যোগাযোগ করছে, বোঝানোর চেষ্টা করছে আমাদের অবস্থান নিয়ে।’

সিরিজ না হলে কী হবে? বিকল্প চিন্তাভাবনা তো আছেই বিসিবির। সুজনের কণ্ঠেও তেমন সুর, ‘দেখুন আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ প্ল্যান তো অবশ্যই আছে। এই সিরিজ যদি কন্টিনিউ না করি সেক্ষেত্রে আমাদের অন্য প্ল্যান আছে। প্লেয়ারদের অনুশীলনটা আমরা কন্টিনিউ রাখবো এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত। আমাদের অনুশীলন বা অন্যান্য যে বিষয়গুলো যেভাবে চলছে সেগুলো কন্টিনিউ করবো। এরপর সিরিজ সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে কোন প্ল্যানে পরিবর্তন আসলে আসবো।’

শ্রীলঙ্কায় তিন টেস্ট খেলার কথা বাংলাদেশের। এখন যে অবস্থা তাতে সংখ্যাটা কমার কোন সম্ভাবনা আছে কি না? সুজন অবশ্য বললেন, ‘সেটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। যেহেতু সিরিজ আয়োজক শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সেহেতু এডজাস্টমেন্টের পুরো বিষয়টি তাদের উপর নির্ভর করছে। এই সিরিজ যদিও হয়ও তারপরও আমাদের প্ল্যান আছে ঘরোয়া লিগ নিয়ে।’


আরো সংবাদ