০৩ জুন ২০২০

হ্যাঁ, ঢাকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো কুমিল্লা

সেঞ্চুরির পর তামিমের বাঁধ ভাঙা উদযাপন - ক্রিকইনফো

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস উঠার পর থেকেই প্রশ্নটা উঠেছিল। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুর্দান্ত এবং তারকাসমৃদ্ধ ঢাকাকে হারিয়ে কুমিল্লা কি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে? উত্তরটা পাওয়া গেছে, হ্যাঁ। আজ ফাইনালে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে কুমিল্লাই হারিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকাকে। ১৭ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

আজ কুমিল্লার জয়ের নায়ক ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে তিনি কিন্তু এবার দলটির অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে ছিলেন। অথচ শেষ বাজি কিন্তু তিনিই মারলেন। অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন। ১৪১ রানের নান্দনিক একটি ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এটি টি-২০’তে তার ক্যারিয়ার সেরা পারফরমেন্স ছিল।

এর আগে সন্ধ্যায় টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শুরুতেই বড় দাও মারে তারা। দলের দুর্ধর্ষ পেসার রুবেল হোসেন শিকারে পরিণত করলেন কুমিল্লার হার্ডহিটার এভিন লুইসকে। এই ক্যারিবীয়ান সবেমাত্র হাতখুলে পেটাতে শুরু করেছিলেন। রুবেলের বলে একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পরই সাজঘরে ফিরে যেতে হয় তাকে।

এরপর ওপেনার তামিমের সঙ্গী হন এনামুল হক। তাকে সাথে নিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দেন তামিম। কিন্তু দলীয় সংগ্রহ শতক হওয়ার আগেই সাকিব আল হাসানের বলে সাজঘরে ফিরেন। সংগ্রহ ছিল ৩০ বলে ২৪ রান।

এনামুলের পরে শামসুর রহমান এলেও শূন্য হাতে ফিরে যান। পরে তামিমের সাথে জুটি বেঁধে ইনিংস শেষ করেন ইমরুল। তামিমকে অপরপ্রান্তে ঝড় তুলতে দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করতে থাকেন তিনি।

৫০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। চার-ছক্কার তাণ্ডব চালিয়ে টি-২০ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক করেন। এরপর যেন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন তিনি। হাঁকান আরো তিনটি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা। ৬১ বলে ১৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১০টি বাউন্ডারি আর ১১টি ছক্কা দিয়ে ইনিংসটি সাজান তিনি।

তামিম-ঝড়ে তিন উইকেটে ১৯৯ রানে শেষ হয় কুমিল্লার ইনিংস।

একটি করে উইকেট শিকার করেন রুবেল ও সাকিব।

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রায় ম্যাচেই ঢাকা ডায়নামাইটসের ভিত্তি গড়ে দেয়া ওপেনার সুনীল নারাইন ফিরে যান শূন্য হাতে। দুশ্চিন্তা তখনই ভর করে ঢাকা শিবিরে। এরপর অপর ওপেনার উপল থারাঙ্গা আর রনি তালুকদার দলের হাল ধরে দ্রুত রান তুলে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায। জয়টা তখন কঠিন ছিল না ঢাকার জন্য। কিন্তু দলীয় ১০২ রানে উপল থারাঙ্গা (৪৮) আর ১২১ রানে রনি (৬৬) সাজঘরে ফিরলে সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।

অধিনায়ক সাকিব করেন মাত্র তিন রান।

আর টেল-এন্ডারদের পক্ষে বাকি পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব হয় না। ফলাফল ১৭ রানে হার।

কুমিল্লার ওয়াহাব রিয়াজ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল।

আর টুর্নামেন্ট সেরা সাকিব আল হাসান।


আরো সংবাদ