১৯ জানুয়ারি ২০২২
`
আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সঙ্ঘর্ষের জের

পুলিশের মামলায় পুরুষশূণ্য কয়েকটি গ্রাম


ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে উপজেলার একটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম।

আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষের জেরে পুলিশের দায়ের করা মামলা ভয়ে তারা গ্রামছাড়া। মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে এসব গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন।

গত ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার ৭ নং হাকিমপুর ইউনিয়নের বিপ্রবগদিয়া গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সঙ্ঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭৬ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পুলিশ বাদি হয়ে শৈলকুপা থানায় মামলা করেন। আর এই মামলার জেরে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের পুরুষ গ্রাম ছেড়েছেন। দিনে কারো কারো দেখা মিললেও রাতে এসব গ্রামের পুরুষরা গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়িতে থাকে না।

উপজেলার বিপ্রবগদিয়া,চামটাইলপাড়া, হরিহরা, সাধুহাটি, নাগপাড়া, খুলুমবাড়ি, নলখোলা, বরিয়া গ্রামের বেশীরভাগ পুরুষই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ৫ জানুয়ারী-২০২২, আর এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউপিতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করলেও এই ইউনিয়নে নির্বাচনী আমেজ নেই।

এই ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামের বাসিন্দা হাশেম আলী বলেন, অনেক আশা ছিল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচন করবো কিন্তু তা আর হলো না । পুলিশের মামলা হওয়ায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক কাজ করছে। যার ফলে বেশীর ভাগ পুরুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

উক্ত ইউনিয়নের বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নার্গিস বলেন, আমার স্বামী শ্রমিকের কাজ করে। আমরা নিরপরাধ মানুষ। পুলিশের মামলা হওয়ায় ভয়ে সে কাজে যেতে পারছে না। ফলে আমরা খেয়ে না খেয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি। এছাড়াও বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় আমরা মহীলারাও আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাই।

হাকিমপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান জিকু বলেন, প্রতিদিনই পুলিশ কোনো না কোনো নিরাপরাধ মানুষের বাড়িতে তল্লাশী ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে আমার ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম। এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হবে। আমি প্রশাসনের কাছে নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ চাই।

নাম না বলার শর্তে গ্রামের একজন জানান, যে সঙ্ঘর্ষের সময় দুই থেকে তিন শ’ লোক ছিল তবে কেন ছয় শতাধীক জনকে আসামি করা হলো এটা বোধগম্য নয়।

শৈলকুপা থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মানুষের জানমালের রক্ষায় কাজ করতে এসেছি। যারা নিরপরাধ মানুষ তাদের হয়রানি করার প্রশ্নই আসে না। তবে যারা অপরাধী তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য গত ২৮ নভেম্বর রোববার দুপুরে ৭ নং হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শৈলকুপা উপজেলার বিপ্রবগদিয়া গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুজ্জামান জিকু ও অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিপ্রবগদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান সাচ্ছুর সমর্থকদের মধ্যে সঙ্ঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সঙএর্ষ তিন পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়। এর জেরে পুলিশ শৈলকুপা শৈলকুপা থানায় একটি মামলা করেন। মামালায় ৬০০ জনকে আসামি করা হয়।


আরো সংবাদ


premium cement