১৭ এপ্রিল ২০২১
`

ঢাকার বায়ু দূষণ, হাইকোর্টের আরো ৩ দফা নির্দেশনা

ঢাকার বায়ু দূষণ, হাইকোর্টের আরো ৩ দফা নির্দেশনা - ছবি - সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাবাসীকে ধুলার দূষণ থেকে বাঁচাতে বৃহস্পতিবার আরো তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে বিচারাধীন একটি রিট মামলায় সম্পূরক আবেদনের শুনানির পর বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ছিটানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে ঢাকার রাস্তায় ওপর থেকে পানি ছিটাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে; যাতে রাস্তার পাশের ছোটখাটো গাছে জমে থাকা ধুলা-ময়লা পরিষ্কার হয়। পানির ঘাটতি তৈরি হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশকে পানি সরবরাহ করতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদেশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমাতুল করিম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাঈদ আহমেদ রাজা, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌফিক এনাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলি এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এ বিষয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ঢাকা ও আশপাশের এলকার বায়ু দূষণ রোধে গত বছর জানুয়ারিতে হাইকোর্ট ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল। পরে ফেব্রুয়ারিতে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হলে বায়ু দুষণ কিছুটা কমে আসে। শীতকালে বাতাসে ধুলা-বালির পরিমাণ এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত কয়েকমাস বায়ু দূষণ কম ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে আবার দূষণ বেড়েছে। সম্প্রতি বায়ু দূষণে ঢাকার অবস্থান বিশ্বে এক নম্বরে উঠে আসে।’

তিনি বলেন, ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার কথা এসেছে। সিটি করপোরেশন বলেছে পানি ছিটানোর গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে পানি ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঢাকা শহর ও আশপাশের এলকার বায়ু দূষণ বন্ধে আরও পাঁচ দফা নির্দেশনা চেয়ে বৃহস্পতিবার একটি সম্পূরক আবেদন করে রিটকারী পক্ষ। তার মধ্যে তিনটি বিষয়ে এদিন আদালত নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান এ আইনজীবী।

বায়ু দূষণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিবাদীদদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিবাদীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ঢাকার সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে জনপ্রশাসন সচিবের প্রতি নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল সম্পূরক আবেদনে।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রুলসহ আদেশ দেয়। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে এইচআরপিবির আরেকটি সম্পূরক আবেদন করে। সে আবেদনে ১২ নির্দেশনা চাওয়া হলেও হাইকোর্ট গতবছর ১৩ জানুয়ারি ৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে আদেশ দেয়।

এগুলো হলো-ঢাকা শহরে মাটি, বালি, বর্জ্য ও মালামাল ঢেকে পরিবহন করতে হবে; চারপাশ ঘিরে উন্নয়ন বা নির্মাণ কাজ করতে হবে; মাটি, বালি, সিমেন্ট, পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রী ঢেকে রাখতে হবে; ঢাকার রাস্তায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সকাল-বিকাল পানি ছিটাতে হবে সিটি করপোরেশনকে; রাস্তা, কালভার্ট, কার্পেটিং, খোঁড়াখুঁড়ির কাজ আইন ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে; যেসব যানবাহন নির্ধারিত মাত্রার বেশি কালো ধোঁয়া ছড়ায় সেগুলো জব্দ করতে হবে; সড়ক পরিবহন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক যানবাহনের ‘ইকোনোমিক লাইফ’ নির্ধারণ করতে হবে; যেসব পরিবহনের ‘ইকোনোমিক লাইফের’ মেয়াদ পেরিয়ে গেছে, সেসব যানবাহন নিষিদ্ধ করতে হবে; ঢাকা ও তার আশপাশের এলকায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হবে; পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া টায়ার পোড়ানো বা ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; শপিং মল, বাজার, দোকানের প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যাগ ভরে নির্ধারিত জায়গায় রাখতে হবে এবং সেগুলো অপসারণে সিটি করপোরেশনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া ঢাকার বায়ুমান উন্নয়নে পরিবেশ অদিদপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা সেদিন জানতে চায় হাইকোর্ট।

এর মধ্যে করোনাভাইরাসে বায়ু দূষণ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াতে পারে, গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন দেখে গত বছর ১৫ নভেম্বর এইচআরপিবির পক্ষ থেকে আরেকটি সম্পূরক আবেদন করা হয়েছিল। সে আবেদনের শুনানির পরই গত ২৪ নভেম্বর আদালত ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ জানতে চায়। ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে তা জানাতে বলা হয়। তার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। সেখানে ফের ৫ দফা নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি। যার শুনানির পর নতুন করে তিনটি নির্দেশনা দিল আদালত।

সূত্র : ইউএনবি



আরো সংবাদ