০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪
ads
`

নার্স দিয়ে চলছে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবা

নার্স দিয়ে চলছে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবা -

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) মেডিক্যাল সেন্টারে তিন ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও এক নার্স ও এক ব্রাদারের ওপর নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে। এক ডাক্তারকে সকালে পাওয়া গেলেও দুপুরের পর ডাক্তারশূন্য অবস্থায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেলা ২টার পরে লাঞ্চের টাইম শেষে ডাক্তারের চেম্বার ফাঁকা পড়ে থাকে। লাঞ্চের পরে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসেবা নিতে গেলে তারা ডাক্তার না পেয়ে নার্স ও ব্রাদারের মাধ্যমে চিকিৎসা নেন। দুপুরের পর চিকিৎসা নিতে যাওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সেবা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে বাধ্য হয়ে নার্স/ব্রাদারের কাছে থেকে চিকিৎসা নিলাম’। এ বিষয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের সিনিয়র ব্রাদার রাজীব কুমার বাছাড় জানান, ‘ডাক্তার না থাকায় আমাদের ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা এসে ওষধু চান, ওষুধ দেয়ায় ভুল হলে কোনো সমস্যা ঘটতে পারে। এ জন্য আমরা আতঙ্কে থাকি।’


মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নেয়া অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা তমা জানান, মেডিক্যাল সেন্টারে কখনোই ডাক্তার পাওয়া যায় না। কোনো একটা সমস্যা নিয়ে গেলে বলে এখানে হবে না! কাশির জন্য গিয়েছিলাম; ডাক্তার তো নেই বরং নার্স কিছু ওষুধ দিয়েছে। কোনো প্রেসক্রিপশনও দেয়নি তারা। চিকিৎসা তো জরুরি সেবা, তাহলে ডাক্তারদের দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৬ ঘণ্টা তো উপস্থিত থাকা উচিত। নাম মাত্রই মেডিক্যাল সেন্টার চলছে। নার্সদের একটু ভুলে সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। লাঞ্চের পরে কেন চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসা কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা: রোকাইয়া আলম বলেন, ‘আমরা মর্নিং ও ইভিনিং শিডিউল ভাগ করে নিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী আমি প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আমার ডিউটি পালন করি। তবে গত পরশু ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জের ভাইবাতে থাকার কারণে আমি ছিলাম না। এ ছাড়া আমি প্রতিদিন থাকি, আজো আমি ১টা পর্যন্ত ছিলাম। অন্যরা কেন থাকছেন না এ বিষয়ে আগামীকাল সকালে আমি অন্য ডাক্তারদের সাথে কথা বলব।’


এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটি ব্যাপার এখন রোগীর ভিড় অনেক বেশি হয়। এক দিনে আউটডোরে ২৫০ শিক্ষার্থীও দেখতে হয়েছে। ২৫০ জন পেশেন্ট দেখা একজন ডাক্তারের পক্ষে সম্ভব নয়। এতগুলো পেশেন্ট দেখার পরে ইভিনিং এ ডাবল টাইমে আর ডিউটি করা সম্ভব হয় না। মেডিক্যাল সেন্টার থেকে প্রশাসনের কাছে ডাক্তার চেয়ে একটা চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আরো দুই ডাক্তার দিলে পুরো টাইম কাভার দেয়া আমাদের জন্য ভালো হয়।’ জানা যায়, দুপুরের পরে চিকিৎসা কেন্দ্রে বসার কথা ডা: নিখিল চন্দ্র বালার। তবে এ বিষয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমার অফিস প্রধান ডা: অভিষেক বিশ্বাসের সাথে কথা বলেন। বাকি দুই ডাক্তারকে পাওয়া গেলেও সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা: অভিষেক বিশ্বাসকে কখনো মেডিক্যাল সেন্টারে পাওয়া যায় না- এমন অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
ডাক্তারদের কেন পাওয়া যাচ্ছে না এ ব্যাপারে সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা: অভিষেক বিশ্বাস বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আপনারা প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’


সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, উনাকে পার্টটাইমে নেয়া। ইমার্জেন্সি প্রয়োজনেই ওনাকে ডাকা হয়। আর বাকি দুই ডাক্তারদের তো ফুলটাইম মেডিক্যাল সেন্টারে থাকার কথা। ডাক্তারদের অর্ধেক টাইম থাকার কথা নয়, তারা ফুলটাইম থাকবেন। তাদের শিফটিং করার কথা নয়। শিফটিং করার পরেও তারা কেন থাকছেন না এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আমি তাদের সাথে কথা বলে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 


আরো সংবাদ


premium cement
মেসির মুখে বাংলাদেশের নাম! সোনারগাঁওয়ে স্ত্রীকে হাতুড়ি পেটা করে হত্যা, স্বামী পলাতক রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৩৯ জাবিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত শিক্ষার্থী লাইফ সাপোর্টে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ ফখরুলের সাংবাদিক মাজহারের পিতার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনের রহস্যময় নজরদারি বেলুন : পেন্টাগন রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে দুই নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা ঈশ্বরগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী সদস্যকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এক সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি ডলার খোয়ালেন আদানি কক্সবাজারে বাসা থেকে নারী এনজিও কর্মীর লাশ উদ্ধার

সকল