০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪
ads
`
ডিলারকে শোকজ চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদফতর

মিঠাপুকুরে ওএমএসের চাল ওজনে কম দেয়া ও টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

-

রংপুরের মিঠাপুকুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার ওই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল ওজনে কম দেয়া, টাকা বেশি নেয়া এবং ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে ভোক্তার স্বাক্ষর নিয়ে চাল না দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই ডিলারকে কেন তার ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সেই মর্মে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে খাদ্য অধিদফতর। তবে সংশ্লিষ্ট ডিলার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছেন। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, খাদ্য বিভাগ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ডিলার মুসা মিয়ার শিব বাজার বিক্রয় কেন্দ্রে ওএমএসের চাল বিতরণে ধারাবাহিকভাবে অনিয়ম হয়ে আসছে। প্রতি জন ভোক্তাকে ৩০ কেজি করে চালের পরিবর্তে দেয়া হয় ২৫ থেকে ২৬ কেজি চাল। সরকার নির্ধারিত ৪৫০ টাকা দরের বিপরীতে ৪৬০ টাকা করে গ্রহণ করেন ওই ডিলার। শুধু তাই নয়, অনেক ভোক্তার কাছে স্বাক্ষর নেয়ার পর বলা হয় ইউএনও চাল দেয় নাই, সে কারণে চাল নেই। এ ছাড়াও এর প্রতিবাদ করলে গ্রাহকদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং ডিসির কাছে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ওই ডিলারের কাছে ১৩ নভেম্বর চিঠি ইস্যু করে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার। চিঠিতে চাল ওজনে কম দেয়া, টাকা বেশি নেয়া, ইউএনওর নামে মিথ্যার আশ্রয় নেয়াসহ অন্য সব অনিয়মের কারণে ডিলার মুসা মিয়াকে কেন ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না সেজন্য তিন দিনের সময় সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয় চিঠিতে।


জানা গেছে, চিঠি ইস্যুর ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি খাদ্য বিভাগ। স্থানীয় শিববাজার এলাকার কার্তিক বর্মন ও রাজিয়া সুলতানা, মুরাদপুরের মর্তুজা বেগম ও ছাবু মিয়া, পূর্ব মুরাদপুরের রোজিনা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, গোলনাহার বেগমসহ ২৫-৩০ জন ভুক্তভোগী ভোক্তা জানান, আমরা ডিলার মুসা মিয়ার ওজনে কম দেয়া টাকা বেশি নেয়ার বিষয়ে ডিসি অফিসে অভিযোগ দেয়ার পর সাংবাদিকরা এলে তাদেরও বলি। এরপর উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে মুসা মিয়াকে চিঠি দিলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আমাদের বলে বেড়াচ্ছেন যতই চিঠি দিক তার কিছুই হবে না। আগে যেভাবে চাল দিতেন, টাকা বেশি নিতেন, এখনো সেভাবেই দিবেন। কেউ তার কিছুই করতে পারবে না। ফলে আমরা আতঙ্কে আছি।
মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক মজনু মিয়া জানান, বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। কিন্তু এই উদ্যোগকে কোনো ডিলার যদি ভন্ডুল করতে চায়। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এ কারণে অভিযুক্ত ডিলারের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুসা মিয়া জানান, এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। আমি খাদ্য অফিসের চাওয়া ব্যাখ্যার জবাব তিন দিনের মধ্যে দিয়ে দিয়েছি। যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সব মিথ্যা। বিষয়টি রাশেক রহমানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরও আমি অবহিত করেছি।
মিঠাপুকুর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার জানান, এ বিষয়ে ডিলার মুসা মিয়া ব্যাখ্যা তলবের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু সেটি সন্তোষজনক হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী সপ্তাহে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমাতুজ্জোহরা জানান, আমরা গণমাধ্যমের খবর দেখে তাকে ব্যাখ্যা তলব করেছি। এখন তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement