০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

টঙ্গীতে রিকশা চালিয়েও গোল্ডেন জিপিএ ৫ অর্জন ২ সহোদরের

সহযোগিতা দেয়া ঢাবি ছাত্র তানভীরের সাথে (মাঝে) দুই সহোদর নয়ন ও নিশাত : নয়া দিগন্ত -

টঙ্গীতে দুই সহোদর রিকশা চালিয়েও গোল্ডেন জিপিএ ৫ অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অদম্য এ দুই সহোদরের নাম মিনহাজুল আবেদীন নয়ন (১৯) ও তৌহিদুর রহমান নিশাত (১৭)। তারা এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অভাবনীয় এ কৃতিত্ব অর্জন করে। তাদের ইচ্ছা ডাক্তার হওয়া। তারা শেরপুর জেলা সদরের চৌধুরীবাড়ীর মোশারফ হোসেনের ছেলে। টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর গাজী বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন।
জীবন সংগ্রামী এ দুই সহোদর জানায়, তাদের বাবা সাব-কন্টাকে একটি ছোট্ট গার্মেন্ট কারখানা চালাতেন। ব্যবসা চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদাররা ভিটেমাটি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের চাপ দেয়। উপায়ন্তর না পেয়ে ভিটেমাটি রক্ষায় তারা গ্রাম ছেড়ে এক ধরনের পালিয়ে আসেন।
ঋণ পরিশোধের জন্য টঙ্গীতে এসে বাবার সাথে দুই সহোদরও বিভিন্ন কাজ খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে বাবা রিকশা চালাতে শুরু করেন এবং দুই সহোদর রাজজোগালীর কাজ নেন। কিছু দিন পর একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ নেন। কিন্তু তাতেও ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা না দেখে পরে দুই সহোদর বাবার সাথে অটোরিকশা চালাতে শুরু করেন। কিস্তিতে রিকশা কিনে তিনজনের যৌথ পরিশ্রমে রিকশার সম্পূর্ণ মূল্য ইতোমধ্যে পরিশোধ করে আগের দায়দেনাও শোধ করছেন। পাশাপাশি টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনাও চালিয়ে যান। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের এ দুর্দশার কথা শুনে দুই সহোদরকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র মো: তানভীরের সাথে তাদের পরিচয় হয়। তিনিও তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জোগান।


আরো সংবাদ


premium cement