০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর শুরু

ক্লাস্টারভিত্তিক ফটোকপি প্রশ্ন
-

দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হবে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর বার্ষিক বা তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা শেষ হবে। এ পরীক্ষার প্রশ্ন হবে ক্লাস্টারভিত্তিক। কম্পিউটার কম্পোজড প্রশ্ন ফটোকপি করে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। ৬০ নম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার সাথে ক্লাস টেস্টের ৪০ নম্বর যোগ করে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে শিক্ষকদের। পরীক্ষার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেয়া যাবে না। পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্ন ফটোকপি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করবে। স্কুলের বাজেটের আনুষঙ্গিক খাত থেকে এর ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
এভাবেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। গতকাল রোববার এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে দেয়া নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচিও জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা নেয়া হবে। ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ইংরেজি পরীক্ষা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।


বলা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বাংলা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সমাজ ও বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এসব শ্রেণীর চারু ও কারুকলা, সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চারু ও কারুকলা, সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ের ও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।


পরীক্ষা যেভাবে : পরীক্ষা আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর বলছে, প্রতি শ্রেণীতে প্রতি বিষয়ে পূর্ণমান ৬০ নম্বরের মধ্যে বার্ষিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিষয় শিক্ষকের মাধ্যমে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগমূলক শিখনক্ষেত্র বিবেচনায় ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। মূল্যায়নকার্যক্রম সম্পন্নের জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটার কম্পোজ করে ফটোকপি করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফটোকপি ও উত্তরপত্রসহ (খাতা) আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খাত বা স্লিপ ফান্ড থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী বাজেট থেকে সমন্বয় করা যাবে।
অধিদফতর আরো বলছে, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র ছাপাখানায় মুদ্রণ করা যাবে না। প্রত্যেকটি বিষয়ে শ্রেণী মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত প্রান্তিকের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে এবং অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য মূল্যায়নের তারিখ ও সময়সূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সিদ্ধান্তে তারিখ ও সময় পুনর্নির্ধারণ করা যাবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement