০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

হুমকির মুখে ইটশিল্প

কয়লার মূল্যবৃদ্ধি
-

কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি খরচ লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা, নির্মাণ শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন (কয়লাভিত্তিক) কেন্দ্রের উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। এর মধ্যেই কয়লা নির্ভর এসব শিল্প-কারখানা চললেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম উপকরণকৃত ইটের দাম ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।


এ দিকে চলতি বছর ৪০০০ থেকে সাড়ে ৫০০০ ক্যালরির প্রতিটন কয়লা শুল্কসহ আমদানি খরচ যেখানে প্রকার ভেদে টন প্রতি ২১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা সেখানে ইটভাটার মালিকরা ক্রয় করছেন প্রতিটন ৩০ হাজার টাকা করে। আবার ভাটায় প্রতিটনে খরচ পড়ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। চলতি মৌসুমের শুরুতে ইট পোড়ানোর খরচও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়লার মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকের মূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে ভাটায় উৎপাদিত ইটের মূল্য আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন ইটভাটা মালিক। জ্বালানি কয়লার আমাদানি মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ অস্থির হয়ে উঠেছে কয়লার বাজার।
২০২০ সালে আমদানি মূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই বছর যে কয়লা প্রতিটনের মূল্য ছিল ৯ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা (পরিবহন খরচসহ) তা বেড়ে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার উপরে হয়। ফলে গত ২০২১ মৌসুমে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম উপকরণ ইটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গত মৌসুমে পাইকারি ইট বিক্রি হয়েছে প্রতি হাজার ৭ বা সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়।


এবার কয়লার মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ইটের মূল্যও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম উপকরণ ইটের মূল্যবৃদ্ধির ফলে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ কাজের খরচ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেতে পারে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব ইটভাটায় ইট পোড়ানোর অন্যতম জ্বালানি হচ্ছে কয়লা। সে কয়লার মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন গত মৌসুমে (২০২০) প্রতিটন কয়লার বাজার মূল্য ছিল ৯ হাজার টাকা সে সময় উৎপাদিত ইটের মূল্য ছিল প্রতি হাজারে ৭ হাজার টাকা। ফলে ২০২১ মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই ইটের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন ২০২১ মৌসুমে কয়লা ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা হওয়ায় ইট পোড়ানো খরচ অনেক বৃদ্ধি পায়। এ বছর কয়লার মূল্য আরো বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইটের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রতি হাজার ইট প্রকার ভেদে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার কয়লার মূল্য ও শ্রমিকের মূল্য আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইটের বিক্রয় মূল্য বেড়ে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে চন্দনাইশ বাদামতলার ইটভাটা মালিক আলহাজ মো: আলী বলেন, প্রতিটন কয়লা প্রকার ভেদে ৩০ হাজার টাকার উপরে পড়ছে। তিনি বলেন শ্রমিকের মূল্য ও কয়লার মূল্যও বৃদ্ধি পাওয়ায় ইটের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়বে।

 

এদিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রাজ গ্রুপের অফিস থেকে জাহিদ হোসাইন জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় কয়লার মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিটন কয়লা ক্যালরি ভেদে ২৪-২৫ হাজার টাকা পড়ছে।
সিলেটের অন্যতম কয়লা আমদানিকারক মো: সালাউদ্দিন আহমেদ গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, ৪ হাজার থেকে ৫০০০ ক্যালরির কয়লা (ইন্দোনেশিয়ার) প্রতিটন ২২ হাজার টাকা পড়ছে (আমদানি শুল্কসহ) প্রতিটনে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার কয়লার আমদানি মূল্য বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ওই দুটি দেশের দূরত্ব অনেক বেশি।


আরো সংবাদ


premium cement