৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বদলি না করা পর্যন্ত বগুড়া সদর ইউএনওর সাথে সব কাজ বন্ধ চেয়ারম্যানদের

-

বগুড়ার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) সমর কুমার পালকে বদলি না করা পর্যন্ত তার সাথে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা। একই সাথে ইউএনওর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর সোমবার এমন দাবি তুলে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। এই অভিযোগ দিয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, দুই জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ ইউপি চেয়ারম্যান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল যোগদানের পর থেকে পরিষদের সবার সাথে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করেন। তিনি সময়মতো অফিস করেন না এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। বিভিন্ন অফিসিয়াল ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ইউএনও সমর কুমারের এমন বিষয় নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যরা একাধিকবার তার সাথে পরামর্শ করেছেন। কিন্তু তিনি তার স্বভাব বদলাননি। এর মধ্যে ইউএনওর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের প্রকৌশল দফতরের নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা ক্ষুণœ হওয়ার দাবি করা হয় অভিযোগপত্রে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক বলেন, ইউএনও সমর কুমার স্বেচ্ছাচারী ও বদমেজাজি। এসব অভিযোগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তার বদলির দাবি জানিয়েছি। তাকে বদলি না করা পর্যন্ত আমরা ইউএনওর সাথে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রেখেছি। পরিষদে নিজেদের যত কাজ আছে সেগুলো করা হবে। শুধু ইউএনওর সাথে আমরা কোনো কাজ করব না। আজকেও পূজা নিয়ে মিটিং ছিল ইউএনওর। আমরা কেউ যাইনি। গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সদর ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসন এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে। মারধরের এ বিষয়টিতে তদন্ত এখনো চলছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদরের ইউএনওর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় বরাবর এই অভিযোগ দেয়া হয়। আমরা সেটি রিসিভ করেছি।


আরো সংবাদ


premium cement