৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

কেবিন বয় সেজে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে লঞ্চে চুরি করে ওরা

-

লঞ্চে যাত্রীবেশে, সহায়তার অজুহাতে, আবার কখনো কেবিন বয় সেজে লঞ্চে টার্গেটকৃত যাত্রীর কেবিনে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এমন একটি আন্তঃজেলা চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশ। ওই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডুপ্লিকেট চাবি ও লক ভাঙার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ঢাকা নদী বন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোতে একটি আন্তঃজেলা চোরচক্র প্রায়ই হানা দিয়ে কেবিন যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে সটকে পড়ছে। চলতি মাসের ১৪ তারিখ রাতে এম ভি সুরভী-৭ লঞ্চের ৩০৫
নম্বর কেবিনের দরজা লক ভেঙে চক্রের দুই সদস্য ঝরনা বেগম নামে এক যাত্রীর চার ভরি স্বর্ণ, এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাতিয়ে নেয়। পরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির বিষয়টি উদঘাটন করে ওই চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। পরে সদরঘাট নৌ-থানার এসআই রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ওই চক্রের দুই সদস্যকে ঢাকা নদী বন্দরের পন্টুন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করে। তা ছাড়া তাদের চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে কেবিনের ডুপ্লিকেট চাবি ও কেবিনের দরজার লক ভাঙার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার চক্রের সদস্যরা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সাহেব আলি বিশ্বাসের ছেলে খাইরুল ইসলাম বিশ্বাস (৩০) ও খালেক হাওলাদারের ছেলে স্বপন হাওলাদার (৪২)। এ ছাড়া পলাতক অন্য সদস্যরা হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আইয়ুব আলী মুসল্লির ছেলে মিজান মুসল্লী (২৭) ও হোসেন খার ছেলে মাসুদ খা (২৮)। পুলিশের কাছে আটক চক্রের সদস্যরা জানান, তারা কখনো যাত্রীবেশে, কখনোও বা সহায়তার অজুহাতে, আবার কখনো কেবিন বয় সেজে লঞ্চের টার্গেটকৃত যাত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া অনেক সময় যাত্রীদের ছুরিকাঘাত করে নদীতে ফেলে দিতো।
সদরঘাট নৌ-থানার ওসি শফিকুর রহমান খান নয়া দিগন্তকে বলেন, আন্তঃজেলা চোর চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সদরঘাটের থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোর কেবিন যাত্রীদের টার্গেট করে অভিনব পন্থায় যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছিল। গত এক বছরে তারা অন্তত ৩০টি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। চলতি মাসের ১৪ তারিখ রাতে বরিশালগামী সুরভী লঞ্চের একটি কেবিন থেকে যাত্রীর টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির পর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। চক্রটিতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


আরো সংবাদ


premium cement

সকল