১৩ আগস্ট ২০২২
`

রাজধানীর শপিংমলে ঈদের উত্তাপ নেই

-

ঈদের বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। কিন্তু শপিংমলে নেই কোনো উত্তাপ। রাজধানীর প্রধান শপিংমলগুলো ঘুরে গতকাল দেখা যায়, ক্রেতাহীন দোকানে দোকানে আড্ডা গল্পে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, করোনা মহামারীর আতঙ্কের সময়ের চেয়েও এখন ব্যবসা খারাপ। তাদের মতে ঈদুল ফিতরে শপিংমল জমজমাট থাকলেও কোরবানির ঈদে ভিড় কম হয়। কিন্তু এবারের মতো ফাঁকা হয় না।
বসুন্ধরা শপিংমলের একাধিক বিক্রেতা জানান, গত ঈদে ১৫ দিন থাকতেই ব্যবসা জমতে শুরু করেছিল। কিন্তু এবার অবস্থা তার উল্টো। সারা দিনে কোনো বিক্রি হয়নি এমন দিনও যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি আর বন্যায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সঙ্কটের সাথে উৎসাহও কমে গেছে। ফলে এক শ্রেণীর হাতে টাকা থাকলেও তারা শপিং করতে আসছেন না।
চাঁদনি চকমার্কেটে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি দোকানে নারীক্রেতা থাকলেও মার্কেটের ৮০ শতাংশ দোকান ফাঁকা। একজন বিক্রেতা জানান, তাদের মার্কেটে করোনার ভয়াবহ সময়েও সন্তোষজনক ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম। সকাল থেকে দোকান খোলার পর যে কয়জন ক্রেতা এসেছেন তাদের বেশির ভাগই না কিনে দরদাম করে চলে গেছেন। এরকম অবস্থা চলতে থাকলেও দোকান ভাড়া পরিশোধও মুশকিল হবে বলে জানান তিনি।
তার পাশেই গাউছিয়া মার্কেট। রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত শপিংমলের একটি। এখানে গিয়ে দেখা যায় মার্কেটের বাইরের সারির কিছু দোকানে ক্রেতা থাকলেও ভেতরের অবস্থা শূন্য। বাবুল নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, সকালে দোকান খোলার পর বেলা ২টা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র সাত শ’ টাকার। এতে করে দুশ্চিন্তায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাই দেশে যে কী হলো বুঝি না। ব্যবসার এমন ব্যস্ত সময়ে অলস সময় পার করছি। সকাল থেকে যে দুই-একজন আসছে তারাও না কিনেই চলে গেছে। ক্যামনে যে ব্যবসা চালাব বুঝতে পারছি না।’
গাউছিয়ার উল্টো দিকে নিউমার্কেট। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় মার্কেটের সামনে হকারদের হাঁকডাক। যাকে দেখছেন তাকেই দোকানে ভেড়ানোর চেষ্টায় তারা ব্যস্ত। কিন্তু আগতদের মধ্যে সাড়া নেই। নিউ পল্টন থেকে আসা রিমি জানান, তিনি ঈদ-শপিং করতে এলেও কিছু কিনতে পারছেন না। কারণ কাপড়ের দাম বেশি। বাজেট সঙ্কুলান না হওয়াতে দরদাম করছেন। শেষ পর্যন্ত কিনবেন কি না তা পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।
শাড়ি বিক্রেতারা জানান, গত ঈদেও তারা শেষ পর্যন্ত অলস সময় পার করেছেন। এবারো একই অবস্থা। তাদের ভাষ্য, দোকান খোলার পর এমন দোকানও আছে যেখানে একজন ক্রেতার দেখাও মেলেনি। গত রমজানের ঈদেও একই অবস্থা ছিল জানিয়ে শোভা শাড়ি ঘরের বিক্রেতা জানান, এমন চিত্র অকল্পনীয়। কারণ বছরে তারা দুই ঈদ উপলক্ষ করে ব্যবসা করেন। কিন্তু এ বছর যা অবস্থা তাতে করে এমন প্রত্যাশা কোনোভাবেই পূর্ণ হবে না।

 


আরো সংবাদ


premium cement