০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর পিবিআই

ঋণ থেকে মুক্তি ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্ত্রীসহ ২ সন্তানকে হত্যা

-

নরসিংদীর বেলাবতে স্ত্রীর নামে এনজিও থেকে এবং স্বজনদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের চাপ থেকে মুক্তি, জুয়া খেলার টাকা না থাকা ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন স্বামী গিয়াস উদ্দিন শেখ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হকের আদালতে মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন গিয়াস উদ্দিন শেখ।
১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দীর ভিত্তিতে নরসিংদী পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান। এ সময় তিনি জানান, পেশায় গিয়াস উদ্দিন শেখ একজন রং মিস্ত্রী। খেলতেন জুয়া। জুয়া খেলার টাকার অভাব হলে তখন তার মাথা ঠিক থাকে না। বিভিন্ন এনজিওসহ শ্যালক, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে স্ত্রী রহিমার নামে করা ১২ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে সপ্তাহে ও মাসে ২২ হাজার টাকার মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হতো তাকে। ঋণগ্রহিতারা মারা গেলে ঋণের টাকা মওকুফ হয় এমন বিশ্বাসে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে গিয়াস উদ্দিন শেখ। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার গভীর রাতে ছুরিকাঘাত ও ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘুমন্ত স্ত্রী রহিমা বেগমকে হত্যা করেন সে। পরে রাতে তার বাড়িতে অবস্থানের কথা সন্তানরা বলে দেবে এমন আশঙ্কায় ঘুমন্ত সন্তানদেরও ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যা শেষে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান গিয়াস।
সকালে স্বজনদের ফোনে স্ত্রী সন্তানের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেন এবং রাতে বাড়িতে ছিলেন না বলে জানান। এসময় প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই রেনু শেখ এর ওপর হত্যার দায় চাপানোর চেষ্টা করেন গিয়াস উদ্দিন শেখ। রেনু শেখের সাথে বাড়ির রাস্তার সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল তার।
পেশাগত কাজে বাড়ির বাইরে অবস্থান করাসহ তার দেয়া অন্যান্য তথ্য সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পিবিআই। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে গিয়াস। হত্যা শেষে নাটক সাজাতে বাড়ি ছেড়ে যান বলে জানান তিনি। আটকের পর তার দেখানোমতে ওই গ্রামের গঙ্গাজলি বিল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও জঙ্গল থেকে রক্তমাখা ক্রিকেট ব্যাট উদ্ধার করে পিবিআই। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
এ দিকে রোববার রাতে নিহত রহিমা বেগমের ভাই মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার দায় স্বীকারের পর ওই মামলায় গিয়াস উদ্দিন শেখকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এই হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ঋণের তথ্য যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে আরো কেউ এই নির্মম হত্যার সাথে জড়িত কী না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া এক নারীর সাথে ফোনে গিয়াস উদ্দিন শেখের নিয়মিত কথা বলার তথ্যও পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৬), একমাত্র ছেলে রাব্বি শেখ (১২) ও একমাত্র মেয়ে রাকিবা শেখ (৭) এর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


আরো সংবাদ


premium cement
জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলা : আজ আবার শুনানি শুরু আদালতে সিরাজ, বুমরার দাপট। তৃতীয় দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে কোপেনহেগেনে শপিং মলে গুলি, বেশ কয়েকজন নিহত হেরেই গেল বাংলাদেশ আ’লীগের নেতাকর্মীরা জনমানুষের পাশে রয়েছে : ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর জাঁকজমক অনুষ্ঠান জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে : রিজভী ধর্মহীন শিক্ষানীতি স্কুলগুলোকে নাস্তিক তৈরির কারখানায় পরিণত করবে : মুসলিম লীগ এশিয়াটিক সোসাইটির বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, কাউন্সিলর পুত্র গ্রেফতার রাজশাহীতে নতুন ‘প্রাইস ট্যাগ’ লাগিয়ে প্রতারণা, জরিমানা যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

সকল