০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
ভরাট বন্ধের আহ্বান আইপিডির

ঢাকার জলাশয়-জলাধার কমছে আশঙ্কাজনকভাবে

-

রাজধানীর আশকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে জলাশয় ভরাট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। গতকাল আইপিডির নির্বাহী পরিচালক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় ঢাকার নগরবাসী এমনিতেই শঙ্কিত আছে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেয়া হলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে জলাশয়-জলাধারগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতার ওপর। একটি নগর এলাকায় জলাশয় এলাকা ১২-১৫ ভাগ থাকা দরকার হলেও ঢাকার জলাশয়-জলাধার এলাকা কমছে আশঙ্কাজনকভাবে। ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত জলাশয়-জলাধার নির্বিচার দখলের শিকার হচ্ছে। রাজধানীর অভ্যন্তরে এলাকার ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত আশকোনা এলাকার একটি জলাশয় বিগত বেশ কিছুদিন ধরে নির্বিচারে ভরাট হলেও এ ভরাট বন্ধের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। রাজধানীর আশকোনায় ঢাকা মহানগরীর মহাপরিকল্পনা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন আইন, জলাধার সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংক্রান্ত আইনকে অমান্য করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জলাশয় ভরাটের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহল কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকল্পের নাম শোনা যায় প্রায়ই। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের অন্যায়, অন্যায্য ও অবৈধ উদ্যোগ যখন রাজধানী শহরে সব নগর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দিবালোকেই হয়, তখন টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়তে আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কেন আমরা কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারছি না, সে বিষয়টি এ ধরনের অন্যায় উদ্যোগের ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে এবং জলাশয়-জলাধার রক্ষায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে ঢাকাকে কোনোভাবেই বাঁচানো যাবে না বলে মনে করে আইপিডি।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো যখন মহাপরিকল্পনা ও বিদ্যমান আইনের নির্দেশনা না মেনে জলাশয় ভরাটে উদ্যোগী হন, তখন জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে অন্যান্য দখলদারদের নিবৃত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক অবস্থান অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। আশকোনার এ জলাশয় ছাড়াও ঢাকার আশপাশে আমিনবাজার-আশুলিয়াসহ অনেক এলাকার জলাশয়-জলাধার নির্বিচারে ভরাট হচ্ছে। ঢাকাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সব ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় আইপিডি।


আরো সংবাদ


premium cement