১৮ মে ২০২২, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩
`

লবিস্ট নিয়োগের জবাব সরকারকে দিতে হবে : হারুন

-

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেন লবিস্ট নিয়োগ করেছে, সেটা আমরা জানতে চাই, সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, আজকে সরকারের ওপর যে চাপ আসছে। এই চাপ বুঝতে হবে। ২০২৩ সালের নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। না হলে সরকার মাফ পাবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে শাহবাগ থানা কৃষকদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও যুগ্মমহাসচিব মোশারফ হোসেনের রোগমুক্তি কামনায় এই দোয়া মাহফিল হয়। গণমাধ্যমের ঊদ্ধৃতি দিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসঙ্ঘের পিস কিপিং মিশনে র্যাবকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সামনে কিন্তু একটা মেসেজ এসে গেছে। ইতোমধ্যে দেখেছেন সংসদে আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের করে ফেলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন বিএনপি নাকি লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিএনপির লবিস্টের দরকার নেই। বিএনপি যা সত্য দেশে যা সংঘটিত হচ্ছে, সেটার জন্যই লড়াই করছে। আওয়ামী লীগ ২০০৪ সাল থেকে সরকারি টাকায় অব্যাহতভাবে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই, এই লবিস্টের টাকা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, কী কারণে, কোন মাধ্যমে, জনগণের কোনো অনুমোদন নাই, কেনো টাকা বিনিয়োগ করেছে? ২০১৪ সালে তারা বিনাভোটে এসেছে। ২০১৮ সালে আমি এমপি, আমার বলতে লজ্জা লাগে, রাতের বেলা ভোটের বাক্স ভরা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় মিথ্যাচার করছেন। সংসদে, সংসদের বাইরে তিনি প্রতিনিয়ত বলেন, আমি জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আছি। আমি আপনাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি তা পালন করেছি। তিনি প্রতিনিয়ত এসব মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। আমরা একটা গভীর সঙ্কটের মধ্যে রয়েছি। বিশেষ করে করোনা মহামারীর কারণে আমরা সঙ্কটে জর্জরিত। দোয়ার আয়োজনের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, মহাসচিবসহ অসংখ্য নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমি তাদের সুস্থতা কামনা করছি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি আপনাদের বিশেষ করে যারা ঢাকা মহানগরীতে আছেন তাদেরকে বলব, এই মানববন্ধন পথসভা করে আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে পারবেন না। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা পর্যায়ের তিনটি সমাবেশে আমি গিয়েছি, সেখানে কিন্তু জনগণের ঢল নেমেছে। অনেক জায়গায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সমাবেশ করেছি। ঢাকা মহানগরীতে আমাদের সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে, সেটা লক্ষ করেছেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে, সেটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এখানেই থেমে নেই, অবিলম্বে দেখবেন জাতিসঙ্ঘ থেকেও নিষেধাজ্ঞা আসবে। ২০২৩ সালের জন্য আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা মহানগরীতে আগে রাজপথ দখলের পরিকল্পনা করতে হবে। এ ছাড়া সরকারকে বিদায় করতে পারবেন না। জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও মনির হোসেন বেপারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দলের সহসভাপতি নাসির হায়দার, খলিলুর রহমান, স্বাধীনতা ফোরামের ফারুকুল ইসলাম প্রমুখ।


আরো সংবাদ


premium cement