২২ মে ২০২২
`

হালনাগাদ ডেটাবেজের অভাবে সিদ্ধান্তে সমস্যা

পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধনে বক্তারা
-

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) উন্নয়নে দেশব্যাপী এসএমইই-ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব, দেশের এই চারটি উপজেলা বা থানায় পাইলট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডেটাবেজ না থাকায় আমাদেরকে প্রায়ই সিএমএসএমই খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হতো।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো: মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাইলট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: মফিজুর রহমান ও এটুআইর প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। ভৈরবের একটি ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তার যাবতীয় তথ্য আপলোড করার পর সেটি অনুমোদন করার মাধ্যমে পাইলট কর্মসূচির উদ্ধোধন ঘোষণা করেন। ফাউন্ডেশন জানায়, এসএমই ফাউন্ডেশন এটুআই সহযোগিতায় দেশব্যাপী এসএমইই-ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এ ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান বর্তমান ২৫ থেকে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এটুআইর সহযোগিতায় এসএমইই-ডাটাবেজ সরকারের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সবশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের ৭৮ লাখের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ ভাগের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের।
নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে। মোট শিল্প কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সৃষ্টি হচ্ছে এসএমই খাতে। এসএমই খাত মোট অভ্যন্তরীণ শিল্পপণ্য চাহিদার শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ জোগান দিয়ে থাকে। তাই এসএমইই-ডাটাবেজ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি বলেন, দেশের সব এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য একটি প্লাটফর্মে পাওয়া গেলে এই খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারণ সহজ হবে। এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন ও এটুআই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে আমি মনে করি।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডেটাবেজ না থাকার ফলে আমাদেরকে প্রায়ই সিএমএসএমই খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হতো। তাই আমি মনে করছি, এসএমই ফাউন্ডেশন ও এটুআইর এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। তিনি বলেন, আমি এটুআই’কে অনুরোধ জানাবো এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে এই কাজ অব্যাহত রাখতে এবং দেশের সব সিএমএসএমই’কে কীভাবে এই ডেটাবেজের আওতায় আনা যায় তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি সব সিএমএসএমই যেন তাদের সংশ্লিষ্ট সব সেবা একটি প্লাটফর্ম থেকে পায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি এটুআই ও এসএমই ফাউন্ডেশনকে। তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, তহবিলের জোগান এবং ব্যবসার বিভিন্ন সেবা দেয়া নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করতে পারে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আইসিটি বিভাগ।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো: মাসুদুর রহমান বলেন, এটুআই এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিগগিরই এসএমইই-ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আরো সংবাদ


premium cement