২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

ফুলে ফুলে রঙিন গদখালি : ঘুরে দাঁড়ানোতে বাধা ওমিক্রন

-

হরেক রকম রঙিন ফুলের সাম্রাজ্য গদখালি। স্বপ্ন নিয়ে ফুল চাষিরা ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে নতুন শঙ্কা ওমিক্রন। যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন ফুলের সা¤্রাজ্য বলে পরিচিত যশোরের গদখালির ফুলচাষিরা। কিন্তু হঠাৎই করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে শঙ্কিত তারা। গেল দুই বছর লকডাউনের কারণে ফুল বেচতে না পেরে নিঃস্ব হতে বসেছিলেন চাষিরা। কেউ আবার ফুলের আবাদ ছেড়ে অন্য ফসলের আবাদ শুরু করেছিলেন। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় ঘুরে দাঁড়াতে ঋণ নিয়ে নতুন করে শুরু করেছে ফুলের আবাদ। এরই মধ্যে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনকে নিয়ে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। ধরনটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সাউথ আফ্রিকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। ওমিক্রন ২৪টি দেশে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়ালেও বাংলাদেশে কোয়ারেন্টিন শুরু সাতটি দেশের যাত্রীর জন্য। গত বৃষ্টিতে ফুলের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। তবে ফুল চাষিদের কাছে বৃষ্টির চেয়ে বড় আতঙ্ক হচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে। ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে যশোরে ফুল চাষিদের কপালে। সামনের দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি নিয়ে সংশয়ে তারা।
২০১৯ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে লকডাউনের দিকে যায় দেশ। যার প্রভাবে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠান। থমকে যায় ফুল সেক্টর। বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হয় ক্ষেতের ফুল। করোনায় পরপর দুই বছর ব্যবসায় ধস নামায় পুঁজি সঙ্কটে পড়েন ফুলচাষিরা। করোনা প্রকোপ কিছুটা কমায় ঋণ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। সামনের দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি করে ক্ষতি পোষাতে চান চাষিরা।
যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের জনপদ গদখালি। গদখালি বাজার থেকে পিচ ঢালা রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই ডানে-বাঁয়ের গ্রামগুলোর দেখা মিলবে দিগন্ত জোড়া ফুলের ক্ষেত। যেদিকে চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে আছে গদখালি মাঠগুলো। পথের দুই ধারে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গø্যাডিওলাস, গাঁদা, জারবেরা ফুলের ক্ষেত। বাতাসে ফুলের মিষ্টি সৌরভ, মৌমাছির গুঞ্জন। কতই না তার রঙ! লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের এক বিস্তীর্ণ বিছানা যেন বিছিয়ে রেখেছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে ফুলের ক্ষেত। চোখ জুড়ানোর পাশাপাশি জুড়িয়ে যায় হৃদয়ও। ফুলই এখানে ফসল। দেশে উৎপাদিত ফুলের ৭০ ভাগ জোগান হয় এখান থেকে । যেখানে গেলে চোখে পড়বে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ ফুল কেটে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকেই বান্ডিল করে চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। পুরুষদের পাশে নারীও কাজ করছে ফুলের ক্ষেতে। কেউ ফুল কাটছে, কেউ নিড়ানি দিচ্ছে। ক্ষেতে-ক্ষেতে রঙ বেরঙের ফুল। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়, ১৪ ফেব্রæয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং ২১ ফেব্রæয়ারি ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের ফুলেল ভালোবাসা প্রকাশের পালাপার্বণ ও দিবসের অভাব নেই। আর এসব দিবসকে সামনে রেখে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন দেশে ফুল উৎপাদনের প্রধান জোন যশোরের গদখালির চাষিরা। সময়মতো পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। আবহাওয়া অনুক‚ল থাকলে এ তিন দিবসে দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন তারা। এবার বিক্রি প্রায় অর্ধকোটি টাকা আশা করছেন তারা।
প্রতিদিন চাষি, পাইকার ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে গদখালির ফুলের বাজার। পাইকারদের কেনা ফুল সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের বাসের ছাদে স্ত‚প করে সাজানো হচ্ছে; পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে ট্রাক-পিকআপ ভ্যান ভরে ফুল যাচ্ছে ।
ফুলচাষি হাফিজা খাতুন হ্যাপি বলেন, ‘সারা দেশে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে যে ফুল বেচা কেনা হয় তার ৭০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত। তবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সংশয়ের কথাও জানান তিনি। বলেন, কোনো কারণে যদি আবার ফুল বেচাকেনায় ভাটা পড়ে তাহলে তাদের পথে বসা ছাড়া গতি থাকবে না।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম গত বৃষ্টিতে ফুলের কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। তিনি জানা ঠাণ্ডায় ফুল ভালো হয়। তবে ফুল চাষিদের কাছে বৃষ্টির চেয়ে বড় অতঙ্ক হচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে শঙ্কিত তারা। গেল দুই বছর লকডাউনের কারণে ফুল বেচতে না পেরে নিঃস্ব হতে বসেছিলেন চাষিরা। কেউ আবার ফুলের আবাদ ছেড়ে অন্য ফসলের আবাদ শুরু করেছিলেন। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় ঘুরে দাঁড়াতে ঋণ নিয়ে নতুন করে শুরু করেছে ফুলের আবাদ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর মুখে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন চিন্তার ভাজ ফেলেছে তাদের কপালে। সামনের দিবসগুলোতে ফুল বিক্রি নিয়ে সংশয়ে তারা।
তিনি বলেন, যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহালে লাভবান হবেন ফুল চাষিরা, ‘এবার ফুলের উৎপাদন, চাহিদা ও দাম সবই বেশ ভালো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস চলতি বছর ঝিকরগাছার গদখালি এলাকায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হবেন ফুল চাষিরা।


আরো সংবাদ


premium cement