২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জানতে চান হাইকোর্ট

-

প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে অর্থপাচারকারী হিসেবে যেসব বাংলাদেশীর নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত সংস্থা বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৯ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন আকারে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা দাখিলের পর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে উঠে আসা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জানতে চাওয়ার পাশাপাশি আদালত দুদকের কাছেও একটি বিষয় জানতে চেয়েছেন। পানামা ও কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে ২০১৬ ও ২০২১ সালে দুদক বিএফআইইউতে দু’টি চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠি দু’টির পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ কী জানিয়েছে বা আদৌ জানিয়েছিল কি না, তার একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্য দিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে উঠে আসা মোট ৬১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুদক ৪৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা কেন দিলো তা জানতে চেয়েছিলেন আদালত। আমি বলেছি, কমিশনের সাথে কথা বলে বিষয়টি জানাতে হবে।
২০১৬ সালের এপ্রিলে পানামা পেপার্স নামে দুর্নীতির সংবাদ আসে বিশ্ব গণমাধ্যমে। ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর প্রকাশ হয় একই ধরনের আরেকটি তালিকা, যা পরিচিতি পায় প্যারাডাইস পেপার্স নামে। এই দুই পেপার্সেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, বিদেশী ব্যাংকে বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গত ১ ফেব্রæয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। সে রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালত তার আদেশে বাংলাদেশী কার কত পরিমাণ টাকা সুইস ব্যাংকে আছে এবং পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চান। সেই সাথে পানামা পেপার্স ও প্যারাডাইস পেপার্সে বাংলাদেশী যেসব নাগরিক ও কোম্পানির নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং সে তদন্তের অগ্রগতি প্রতি মাসে আদালতকে জানাতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চান হাইকোর্ট। আর বাংলাদেশী কোনো নাগরিক অথবা কোম্পানি বা অন্য কোনো সত্তার অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের বিষয় নিরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
এরপর বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিদেশে অর্থপাচার নিয়ে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে উঠে আসা দেশের ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যসম্বলিত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেয় দুদক।


আরো সংবাদ


premium cement