২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ

আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ব : গয়েশ্বর

-

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আর কোনো কথা হবে না। এখন হবে মিডনাইট সরকারের বিরুদ্ধে অ্যাকশন। গতকাল সোমবার দুপুরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, যার যার এলাকায় সংগঠিত হোন। নব্বইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করব। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে নিয়ে যেসব কথা বলা হয় তা অরুচিকর। তার (ডা: মুরাদ) গালে জুতা মারতে হবে।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচতলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি সমর্থিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেনÑ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও নিপুণ রায় প্রমুখ। সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল বাশার আকন্দ, ত্রিশালের জয়নাল, আবু তাহের হিরন, আবদুল আজিজ, তানজিন চৌধুরী লিলি, শরিফ আহমেদ, আমিরুল ইসলাম মনি, ময়না, রিপা, রচি, মিরসরাইয়ের নূরুল আমিন, মতলবের শুক্কুর পাটোয়ারী, মানিকগঞ্জের আতাউর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্যসচিব মো: আব্দুর রহিম, বগুড়া থেকে মোর্শেদ মিল্টন, আব্দুর রহিম, মীর শাহে আলম, ভেড়ামারার তৌহিদুল ইসলামসহ শতাধিক চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সমাবেশে অংশ নেন। বেশির ভাগ সাবেক চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে একযোগে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার আহŸান জানান।
সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আর কোনো কথা নেই। এখন মিডনাইট সরকারের বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে। আমরা নেত্রীকে দুই চোখে দেখতে পাই না। তিনি মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। দুই কোটি টাকা আজকে আট কোটি টাকা হয়েছে। তাকে অপবাদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় সাজানো রায়ে বন্দী করা হয়েছে। এই সরকার হিজড়ার কাছে হেরেছে। এমনই ডাস্টবিনের একটি অপছন্দের দল আজকে রাষ্ট্রক্ষমতায়।
তিনি বলেন, আমাদের পরিচিতি জিয়ার কর্মী হিসেবে। আমরা খালেদা জিয়ার অনুসারী। তারই উত্তরসূরি তারেক রহমান আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দিতে পারব। সৈনিকের কাজ হলো শুধু যুদ্ধ করা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করব। কেননা আমাদের ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস। আজকে জনধিকৃত সরকার ক্ষমতায়। পুলিশ দিয়ে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আমরা সামনে এগিয়ে গেলে পুলিশ জনগণের বিরুদ্ধে যাবে না।
মির্জা আব্বাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন। দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। আজকে তিনি ভালো অবস্থায় নেই। কিন্তু সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। খালেদা জিয়া বারবার প্রত্যক্ষ ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আজকের প্রধানমন্ত্রীর মতো রাতের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হননি। আজকে তাকে ধ্বংস করার জন্য যা করা দরকার তারা করছে। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় মন্তব্য করছে। আসলে রাস্তা থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানালে এমনই হবে। তার নেতানেত্রী যেমন মন্ত্রীরা তেমন। তারা সভ্য মায়ের সন্তান নয়। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুসন্তান। আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আমাদের আন্দোলনের চাপ সরকার সহ্য করতে পারছে না। তারা আমাদের দৃষ্টি অন্য দিকে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের গণতন্ত্র, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বা বিএনপি যখনই বিপদে পড়ে তখনই তৃণমূল এগিয়ে এসেছে। আপনাদেরকে আবারো জেগে উঠে লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি দেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে অসংখ্য অবদান রেখেছেন। তাই নারীদেরকে আরো সংগঠিত হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শফিকউজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়ার নামের ওপর ভর করেই আমরা চেয়ারম্যান হয়েছি। তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে অনেক মানবিক কর্মসূচি দিয়েছি। এখন আমরা হরতাল কর্মসূচি চাই। প্রয়োজনে তার জন্য আমরা জীবন দেবো।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের শপথ নিতে হবে। সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, জন্ম-মৃত্যু তো আল্লাহর হাতে নির্ধারিত। এবার ঘরে বসে নয়, বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি দিন। সারা দেশ অচল করে দেয়া হবে। আমরা রাজশাহীতে দলীয় কর্মসূচি পালনে যা করা দরকার সব করব। ঝিকরগাছার সাবেক চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নী বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিদেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে যে পরিস্থিতি হবে তাতে সরকার কিন্তু বেসামাল হয়ে পড়বে। সুতরাং ভালোয় ভালোয় তাকে মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দরকার হলে আমরা কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নামব। ফুলপুরের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার আকন্দ বলেন, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। যেমন হয়নি একাত্তরে। এখন এমন আন্দোলন দিতে হবে যাতে এই সরকারের মসনদ তছনছ হয়ে যায়। প্রয়োজনে আমরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে প্রস্তুত আছি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা সুস্থ ছিলেন। আজকে তাকে কুরে কুরে হত্যা করা হচ্ছে। তার দায়িত্ব কে নেবে? দেশনেত্রীর কিছু হলে অবশ্যই শেখ হাসিনাকে দায় নিতে হবে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল বলেন, ফরমায়েসি রায়ে খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে সুচিকিৎসা দিচ্ছে না সরকার। প্রিয় নেত্রীকে মুক্তির জন্য আরো কঠোর আন্দোলন করতে হবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement