০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

বেনাপোল এক্সপ্রেস বন্ধ হতাশায় ট্রেনযাত্রীরা

বেনাপোল এক্সপ্রেস
-

করোনার তাণ্ডবে দেশ যখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দেশের সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ হয় সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে বেনাপোল-ঢাকা রুটে চলাচলের রেল বেনাপোল এক্সপ্রেস। বর্তমানে দেশের সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা সরকার চালু করলেও বেনাপোল-ঢাকা রুটে এ রেল সার্ভিসটি চালু না হওয়ায় হতাশায় ভুগছে ট্রেনযাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথে যাত্রী সেবা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর ঢাকা-বেনাপোল রুটে চালু করেছেন বেনাপোল এক্সপ্রেস নামে রেল সার্ভিস। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই এটির শুভ উদ্বোধন করেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হওয়ায় খুশি হয় সকল শ্রেণীর মানুষ। ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানির কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদেরও যাতায়াত সহজতর হয়। পাশাপাশি পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যাপক সুবিধাসহ নানা হয়রানি থেকে রেহাই পায় তারা। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ৫ থেকে ৬ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে থাকে। যাত্রীদের সিংহভাগ আসে ঢাকা থেকে। সড়কপথের বেহাল দশা ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যানজটের কারণে যাত্রীরা নানামুখী হয়রানির শিকার হয়। আর ব্যবসা-বাণিজ্য চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ভারতের উপর বেশি নির্ভরশীল। ভারতের সাথে যোগাযোগেরমাধ্যম শুধু বাস। ঢাকা-বেনাপোল রুটে রেল চালু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ লাঘব হয়।
পরিবহনে যেখানে ১২-১৪ ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে বেনাপোল-ঢাকা ননস্টপ ট্রেনটি চালু হওয়ার পর যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় ঢাকা যেতে পারছিল। এই ট্রেনটিতে ১০টি বগি। ১০টি বগির মধ্যে দুটি কেবিন, দুটি এসি চেয়ার ও বাকিগুলো চেয়ার রয়েছে। কেবিনের ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া এক হাজার টাকা ও নন এসি চেয়ার ভাড়া ৫০০ টাকা। বেনাপোল-ঢাকা রেল রুটের যাত্রী সেবার ক্ষেত্রে সিট অনলাইনে যাত্রীরা সংগ্রহ করতে পারছিলেন। সপ্তাহে এক দিন বিরতি দিয়ে প্রতিদিন দিনে একবার এ লাইনে ট্রেন চলাচল করত।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ এবং ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের সুবিধার্থে বেনাপোল-ঢাকা রুটে বেনপোল এক্সপ্রেস নামে রেল সার্ভিস চালু করে ছিলেন। কিন্তু করোনায় বন্ধ থাকার পর সব কিছু চালু হলেও এটি চালু না হওয়ায় ভারত-বাংলদেশ যাতায়াতকারী যাত্রীসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তিনি দ্রুত চালু করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের নিকট জোর দাবি জানান।
বেনাপোল স্টেশন মাস্টার মো: সাইদুজ্জামান জানান দেশ স্বাধীনের পরপরই বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন সার্ভিসটি ১৯৯৯ সালে দুই দেশের সরকারের প্রচেষ্টায় আবারও চালু হয়। প্রথম পর্যায়ে পণ্য পরিবহণে কার্গো সার্ভিস চালু হয়।পরে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে বন্ধন রেলের যাত্রীসেবা চালু হয়। পরে ২০১৯ সালে চালু হয় বেনাপোল-ঢাকা রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস রেল সার্ভিস। কিন্তু করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি এখনো চালু হয়নি। কি কারণে চালু হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে তিনি জানান কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটা কবে নাগাদ আবার চালু করা হবে তা আমার জানা নেই।



আরো সংবাদ