২৮ অক্টোবর ২০২১
`

ট্রেনে ডাকাতি ও দুই যাত্রী খুনের ঘটনায় আরো পাঁচজন গ্রেফতার

-

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি ও দুই যাত্রী খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এর আগে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। এ নিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করল আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪-এর সদর দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক উইং কমান্ডার রুকনুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্য। এরা ট্রেনে পেশাদার ছিনতাইকারী। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছিনতাই করে। সুযোগ পেলেই করে ডাকাতি। তিনি জানান, গত শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর শিকারীকান্দা থেকে আশরাফুল ইসলাম স্বাধীনকে (২৬) গ্রেফতারের পর তার কথামতো ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারার মনজুর ছেলে মাকসুদুল হক রিশাদ (২৮), সাব্বিরের ছেলে মো: হাসান (২২) ও মোহাম্মদ, ধামাইয়ের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৩১) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ট্রেনে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চারজন পেশাদার ডাকাত জামালপুর কমিউটার ট্রেনে ওঠে। পরে রিশাদ, হাসান ও স্বাধীন টঙ্গী স্টেশনে ওই চারজনের সাথে যুক্ত হয়। ট্রেনটি ফাতেমা নগর স্টেশনে থামলে তাদের সাথে যোগ দেয় মোহাম্মদ ও তার একজন সহযোগী। ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করে। ডাকাতির একপর্যায়ে ভিকটিম নিহত মো: সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং ডাকাতরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে তাদের মাথায় এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে। মৃত সাগর ও নাহিদ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন তখন ডাকাতরা ট্রেনটি ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে ঢোকার আগের সিগন্যালে ট্রেনের গতি কমলে ট্রেন থেকে নেমে যায়।
র্যাব অধিনায়ক আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছে। এরা রাজধানীর কমলাপুর, এয়ারপোর্ট ও টঙ্গী রেলস্টেশনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠে এবং তাদের কিছু সহযোগী গফরগাঁও, ফাতেমা নগর স্টেশনে উঠে সম্মিলিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেমে যেত। ঘটনার দিন তারা ছিনতাইয়ের পরিবর্তে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তারা ছোট ছোট উপ-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করত। এই ছোট ছোট উপ-গ্রুপ কেউ টার্গেট শনাক্ত করত, কেউ নিরাপত্তার বিষয় দেখত, কেউ লুণ্ঠিত মোবাইল ও অন্যান্য লুণ্ঠিত মালামাল সংগ্রহ করে বিক্রি করত আর বাকিরা সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত থাকত। চক্রটি তাদের ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে তাদের পূর্বনির্ধারিত জায়গায় লুকিয়ে রাখত। গ্রেফতারকৃত রিশাদ, স্বাধীন, মোহাম্মদ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল। হাসান টার্গেট শনাক্তের কাজে যুক্ত ছিল, রুবেল লুণ্ঠিত মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল স্বল্পমূল্যে এই চক্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করত এবং অন্যদের কাছে বেশি মূল্যে বিক্রি করে মুনাফা লাভ করত। সে এই চক্রের পৃষ্ঠপোষক। রিশাদ এই সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা। তার নামে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা ও কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সে দুই বছরের বেশি কারাগারেও ছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে ডাকাতি হয়। ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহিদের ছেলে নাহিদ মিয়া ও জামালপুর শহরের বাগেড়হাটা বটতলা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত সাগরের মা হনুফা খাতুন বাদি হয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় নগরীর কেওয়াটখালী এলাকা থেকে শিমুল মিয়া (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত আজ ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে শিমুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



আরো সংবাদ