০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

অবশেষে এমপিওভুক্ত হলেন কলেজের ৮৪১ শিক্ষক

-

দীর্ঘদিন মামলা মোকদ্দমা আর প্রতিক্ষার পর এমপিওভুক্ত হয়েছেন ডিগ্রি কলেজের ৮৪১ জন তৃতীয় শিক্ষক। তাদের এমপিওভুক্তির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়ে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুনভাবে এমপিওভুক্ত হওয়া এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাবদ বছরে ২৫ কোটির বেশি টাকা খরচ হবে। তবে এতে এক দশকের বেশি সময় বিনা বেতনে চাকরি করা শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপনের অবসান হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো: কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে চার শর্তে এই ৮৪১ শিক্ষকের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করা হয়েছে। শর্তগুলো হলো, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি স্তরটি সরকারি এমপিওভুক্ত হতে হবে, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগকালীন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, নিয়োগকালীন বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত হতে হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্ত করতে হবে এবং আগে তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন করে তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না।
উল্লেখ্য গত ২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি স্তরের প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে দুজন শিক্ষকের নিয়োগসহ এমপিওভুক্তির বিধান রয়েছে। অপর দিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধিভুক্তি সংক্রান্ত রেগুলেশন অনুযায়ী ডিগ্রি স্তরের প্রতি ঐচ্ছিক বিষয়ে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের বিধান আছে। এ বিধান থাকলেও তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয় না।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ডিগ্রি স্তরের ১৫৩ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়। একই বছরের ২৮ আগস্ট ২০১০ সাল পর্যন্ত বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অপরদিকে ২০১০ সালের পর বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত আনুমানিক ৮৪১ তৃতীয় শিক্ষক রয়েছেন। তারা এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এ শিক্ষকরা অর্থ বিভাগ কর্তৃক জনবল কাঠামোভুক্ত নন। এ কারণে তৃতীয় শিক্ষকদের যোগ্যতা ও বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও কর্মরত থাকা সাপেক্ষে এমপিওভুক্তিকরণে সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) ডা: সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, তৃতীয় শিক্ষক পদটি রেগুলার এমপিওভুক্ত পদ নয়। তাদের এমপিওভুক্ত করতে হলে আর্থিক বিষয়টির কথা আসে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর তাদের এমপিওভুক্ত করা প্রস্তুতি শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সাল থেকে ডিগ্রি পর্যায়ের তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া শুরু হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত এ শিক্ষকদের নিয়মিত এমপিওভুক্তি দেয়া হতো। কিন্তু ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নন-এমপিও শিক্ষকদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। মাউশির মতামতে, এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজের জনবলকাঠামো ২০১০ প্রকাশের পর বিধি মোতাবেক তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৮৪১ জন। তাদের এমপিওভুক্ত করা হলে সরকারের বার্ষিক ২৫ কোটি এক লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় হবে।



আরো সংবাদ


চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে ভবনে বিস্ফোরণে দগ্ধ ভাই-বোনের পর বাবার মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন নিহত স্বল্প সময় ও ভিআইপিদের যাঁতাকলে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ ওমিক্রনে এখনো কোনো মৃত্যুর রিপোর্ট পাওয়া যায়নি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খালেদা জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে না : মির্জা ফখরুল নীলফামারীত‌ে উগ্রবাদী সন্দেহে সাতজন আটক ‘প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া হবে’ আরব আমিরাতকে ৮০টি রাফাল দিচ্ছে ফ্রান্স ‘লাল কার্ড’ হাতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা ইরান ইস্যুতে আমেরিকা একঘরে হয়ে পড়েছে : ব্লিঙ্কেনের স্বীকারোক্তি

সকল