১৮ অক্টোবর ২০২১
`
গোশতের চাহিদা মেটাবে

সাভারে উটপাখি পালন শুরু

-

হাঁস, মুরগি, কোয়েল বা কবুতর বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন ইতোমধ্যে একটি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে উটপাখি লালন-পালন ওই সব পাখির তুলনায় তুলনামূলকভাবে একটি নতুন ব্যবসায়িক ধারণা। আজকাল, বিশ্বের অনেক দেশ উটপাখি লালন-পালন শুরু করেছে। উটপাখির পালক অত্যন্ত মূল্যবান, যা মূলত ঘর সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। তাদের চামড়াও খুব মূল্যবান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও বেশি। সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রথমবারের মতো গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের উটপাখি লালন-পালন শুরু করেছে। গবেষণার মাধ্যমে উটপাখি আগামী দুই বছর পর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে পাঠানো হবে। মূলত গরু, ছাগল ও হাঁস মুরগির গোশতের পাশাপাশি উটপাখিও দেশে গোশতের চাহিদা মেটাবে। উটপাখির গোশত অনেক সুস্বাদু এবং চর্বি কম থাকে।
বিএলআরআই এবং উটপাখি গবেষকদের সূত্রে জানা যায়, উটপাখি ব্যক্তিপর্যায়ে শখের বশে এবং চিড়িয়াখানায় লালন পালন করা হলেও বর্তমানে দেশে গোশতের চাহিদা মেটানোর জন্য বছরখানেক আগে সাউথ আফ্রিকা থেকে কিছু উটপাখি নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে। সাউথ আফ্রিকার আবহাওয়ার সাথে বাংলাদেশের আবহাওয়ার অনেকটা মিল থাকায় এখানেই উটপাখিগুলো লালন পালন করা হয়। বাংলাদেশে গরম যেমন পড়ে আবার ঠাণ্ডাও বেশি পড়ে না। তবে গরম এবং ঝড়বৃষ্টি এ পাখির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। সাউথ আফ্রিকায় গরম বেশি পড়লেও বাতাসে আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ থাকে, যাতে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো সহজ হয় । আর বাংলাদেশে গরম কম পড়লেও বাতাসের আর্দ্রতা ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ হওয়ায় ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো সমস্যা হয়। তবে বিএলআরআইতে এখনো উটপাখি ডিম পাড়েনি এবং বাচ্চা ফুটানোও সম্ভব হয়নি। তবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এবং নরসিংদীতে ডিম পাড়লেও দেশের কোথাও এখনো বাচ্চা ফুটানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যে উটপাখিগুলো বিএলআরআইতে লালন পালন করা হচ্ছে তা সরাসরি সাউথ আফ্রিকা থেকে আনা। দুই বছর পর গবেষণা শেষে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পর উটপাখি দেশের বিভিন্ন খামারিদের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে পাঠানো হবে। এদিকে দেশের কোথাও কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো সম্ভব না হলেও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়া এবং তার পিএইচডি ফেলো খন্দকার তৌহিদ ইসলাম ইনকিউবেটরের মাধ্যমে কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম ফুটানোর জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উটপাখি গবেষক খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম জানান। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাখির নাম উটপাখি। উটপাখি উড়তে পারে না। উটপাখি পোলট্রি ফিডসহ লালশাক, পালংশাক বিভিন্ন ঘাস এবং লতাপাতা, কাঁঠালগাছ ও শজনে গাছের পাতা খায় এবং দ্রুত বড় হয়। ৫০ ভাগ দানাজাতীয় এবং ৫০ ভাগ ঘাসজাতীয় খাবার খায়। উটপাখি পালনে খরচ কম তাই এটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। উটপাখির গোশতে চর্বি কম, আয়রনের পরিমাণ বেশি, খুবই সুস্বাদু এবং ক্ষতিকর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যাদের উচ্চরক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য এ গোশত খুবই উপযুক্ত। একটি উটপাখি বছরে একশটি ডিম দেয়। এদেরকে মরুভূমির সৌন্দর্য বলা হয়। উটপাখি ৮ থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি ১৬০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। এক বছরের উটপাখিগুলো ১২০ থেকে ১৩০ কেজি ওজন হয়। আর একটি ডিমের ওজন ১২০০ থেকে ১৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এ ছাড়াও ডিম থেকে সদ্য যে বাচ্চা ফুটে তার ওজন ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ শ’ গ্রাম হয়ে থাকে। উটপাখির রোগ অনেকটা মুরগির বাচ্চার মতো হয়ে থাকে। যেমন রানীক্ষেতসহ বিভিন্ন রোগ। তবে এগুলোর প্যারালাইসিস রোগটি বেশি হয়। ৩-৪ মাস বয়সের বাচ্চাগুলোর রোগ বেশি হয়।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সাভারের পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ড. সাজিদুল করিম সরকার নয়া দিগন্তকে জানান, উটপাখির গোশত আমাদের দেশে গোশতের চাহিদা মেটাবে। এ গোশতের প্রোটিন ও মান অনেক ভালো। ফ্যাট কোলেস্টেরলের পরিমাণ অন্য গোশতের চেয়ে কম এবং আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় এ গোশত খেলে মানুষের হার্টসহ বিভিন্ন রোগ কমে যাবে।

 



আরো সংবাদ


মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২২৬৩)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১১৮৪৮)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৪৪৭)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৩৫৭)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০০৬)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬১৯৩)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৪)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৫৯)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৭৮৬)