০৩ আগস্ট ২০২১
`

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে নন্দন এ্যাপারেলসের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

-

গত ৬ জুনের নয়া দিগন্ত পত্রিকার তৃতীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘গাজীপুরে নন্দন এ্যাপারেলস ভবন ভাড়া ও ব্যাংক ঋণ না দিয়ে পালিয়েছে মালিক’ শীর্ষক সংবাদটির প্রতিবাদ করেছে মেসার্স নন্দন এ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে বলা হয়েছে, সংবাদটির বেশির ভাগ তথ্য অসত্য এবং ভবন মালিকের মনগড়া কথার আলোকে পরিবেশন করা হয়েছে।
প্রতিবাদে বলা হয়, ‘মেসার্স নন্দন এ্যাপারেলস একটি রফতানিমুখী বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ২০০৭ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে রফতানি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি ভাড়া করা ভবনে অবস্থিত। এ ভবনের পক্ষে দুইজন মালিক মেসার্স নন্দন এ্যাপারেলসের সাথে ঘরভাড়া চুক্তিপত্র সম্পাদন করে থাকে। তাদের মধ্যে একজন হলেন টঙ্গীর নুরুল ইসলাম সরকারের পক্ষে তার ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি এবং অপরজন ডা: শরীফ শাহাদাত হোসেন। নিয়মিত ভাড়া পরিশোধক্রমে ২০১৫ সালে ভাড়া চুক্তিপত্র পুনরায় নবায়নও করা হয়।’
প্রতিবাদের বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং ভবনের স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে আমরা ভবন মালিকের সম্মতিতে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করে অনেক কাজ সম্পন্ন করা হয়। ওই কাজের ব্যয়সমূহ ভবন মালিকপক্ষ বহন করার কথা থাকে। ইত্যবসরে কারখানা চলাকালীন অবস্থায় সরকার শাহনূর ইসলাম রনি প্রতিনিয়তই দুষ্কৃতকারীদের নিয়ে বিভিন্ন কূটকৌশলে কারখানার উৎপাদন কাজ ব্যাহত করে এবং বিনা মূল্যে জুট ও গার্মেন্ট দ্রব্যাদি নেয়ার নানা চেষ্টা করে। আর সে সাথে ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকাপয়সা দাবি করে। তাদের এহেন সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পরিশেষে অপারগ হয়ে আমরা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।’
প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়, ‘বিজিএমইএর তৎকালীন একজন পরিচালকের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সমঝোতার আলোকে নন্দন এ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষকে সব মালামাল সরিয়ে নিতে সময় দেয়া হয় এবং ভাড়া বাবদ মোট ১০ লাখ টাকা ভবন মালিককে পরিশোধ করার জন্য বলা হয়। এর মধ্যে দুুই লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। বিজিএমইএর নির্দেশনা মোতাবেক সকল শ্রমিক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কারখানার মালিক যখনি মালামালসমূহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে ঠিক তখন গত ১৩ জানুযারি ২০২০ তারিখে আনুমানিক গভীর রাতে ভবন মালিক সরকার শাহনূর ইসলাম রনির সরাসরি যোগসাজশে ১০-১২টি ট্রাক নিয়ে অস্ত্রের মুখে কারখানার দারোয়ানদের বেঁধে রেখে কারখানা হতে ১১০টি দামি মেশিন এবং বেশকিছু মেশিনের পার্টসসহ অন্যান্য মালামাল সাত-আট ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে বাদবাকি ট্রাকসহ দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। কারখানার মালিক এ সময় ঢাকার বাইরে ছিলেন। ঘটনার সাথে সাথে তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় গাছা থানার সাথে যোগাযোগ করেন এবং বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি, পরিচালকমণ্ডলীসহ গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রশাসন তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘটিত ঘটনার তথ্যাদি নিরূপণ করে। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে পুলিশ প্রশাসনসহ বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ, নানা সংস্থার সাথে নিজেই সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা করে ২২ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে গাজীপুর সংশ্লিষ্ট গাছা থানায় কোম্পানির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয় (অভিযোগ নম্বর ৪০, তারিখ ২২.০১.২০২০)। এরই মধ্যে বিশ্বস্থ সূত্রে খবর পেয়ে মিরপুর মিসকো সুপার মার্কেট থেকে ৮৪টি মেশিন উদ্ধার করা হয়। ভবন মালিক সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নিজেই নন্দন এ্যাপারেলসের মেশিনসমূহ প্রায় ৯০ লাখ টাকায় মিরপুরে এসব মেশিন বিক্রি করার বিষয়টি প্রমাণ ও টাকা লেনদেনের চেকসহ অন্যান্য দালিলিক প্রমাণাদি গাছা থানায় এবং আমাদের হাতে সংরক্ষিত আছে। ৮৪টি মেশিন উদ্ধার হলেও বাকি ২৬টি মেশিন ভবন মালিক সরকার শাহনূর ইসলাম রনি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলেও অদ্যাবধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু কারখানা এ যাবৎ বন্ধ রয়েছে গাছা থানা প্রশাসনের মৌখিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের দুইজন করে দারোয়ান বর্তমানে কারখানা পাহারারত আছে। ২৬টি মেশিন ফেরত না দেয়ার কারণেই কারখানার মালামাল মেশিনপত্র এখনো সরানো সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদে বলা হয়, ‘প্রকাশিত সংবাদে ব্যাংক ঋণ এবং মেসার্স নন্দন এ্যাপারেলসের মালিকের ফোন বন্ধ সংক্রান্ত যে তথ্য পরিবেশন করেছে তা সঠিক নয়। নন্দনের মালিক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা, তাই লাপাত্তা থাকার কোনো অবকাশ নেই।’



আরো সংবাদ