২৪ জুন ২০২১
`

কিশোর অপরাধ বাড়ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়

তালিকায় উঠে আসছে নেতাদের নাম
-

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে কিশোর অপরাধীদের দৌরত্ম্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা তাদের অবৈধ ফায়দা লুটতে ব্যবহার করছেন এলাকার কিশোরদের। প্রথম দিকে নেতাদের লোভনীয় অফার ও পুরো বিষয়টাকে অ্যাডভেঞ্চার মনে করে অপরাধ করেই ফেসে যাচ্ছে এসব কিশোর। এরপর তারা আর ফিরে আসতে পারছে না স্বাভাবিক জীবনে। জড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক তদন্ত ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এমনই চিত্র বেরিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশুসন্তানের সামনে প্রকাশ্যে বাবাকে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে উঠে আসে সাবেক এমপি আওয়ালের নাম। তার নির্দেশেই এক গ্রুপ নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বাবা শাহিনুদ্দিনকে। হত্যার সাথে জড়িতরা বেশির ভাগই কিশোর ও তরুণ বয়সের। তারা কেউ কেউ বয়সের দিক দিয়ে যুবক হলেও কিশোর গ্যাং হিসেবেই দল পরিচালনা করত। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দু’জন র্যাব ও ডিবি পুলিশের পৃথক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এরপর থেকে বৃহত্তর মিরপুর এলাকা নিয়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাংয়ের নেতাদের একটি তালিকা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যে তালিকার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের নাম।
জানা গেছে, বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর। বিশেষ করে পল্লবী ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব কিশোর অপরাধীদের গ্রুপ তৈরি হয়েছে তার প্রায় সব ক’টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
প্রতিটা কিশোর গ্যাং প্রধানদের ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করেন তিনি। তার নির্দেশে মিরপুর ১১ তে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে ইমরান তালুকদার ওরফে লাদেন সোহেল। তার বাহিনীতে রয়েছে অর্ধ শতাধিক কিশোর ও যুবক। মূলত মাদককারবার, জমি দখল, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কাজে তালুকদার বাহিনীকে ব্যবহার করেন ওই কাউন্সিলর। মিরপুর সেকশন ১০ এর কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে পল্টন। এ গ্যাংয়ে মাদককারবারিসহ প্রায় ২০০ যুবক ও কিশোর রয়েছে। এই বাহিনীকে ওয়াপদাহ বিহারি ক্যাম্পের মাদককারবার ও ফুটপাথ দখল করে দোকান ভাড়া দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধী এবং অপরাধীদের শেল্টারদাতা সবাইকে সমানভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। যারা অপতৎরতা চালাচ্ছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপর একটি সূত্রমতে, তালিকায় থাকা বড় বড় নেতার নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না গোয়েন্দারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, নাম প্রকাশ করা হলে অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন।



আরো সংবাদ