১৬ জুন ২০২১
`

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ আপাতত না কাটতে হাইকোর্টের নির্দেশ

-

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ আপাতত না কাটতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা ও দোকান নির্মাণ নিয়ে আদালত অবমাননার আবেদনটি শুনানির জন্য ২০ মে দিন রেখেছেন হাইকোর্ট। এ সময়ে যাতে গাছ কাটা না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের উদ্দেশে আদালত বলেন, ২০ তারিখে আবেদনটি শুনানির জন্য আসবে। আপনি মৌখিকভাবে বলে দেবেন এ সময় পর্যন্ত যেন গাছ না কাটে। আপাতত যেন গাছ না কাটে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
এর আগে গত ৯ মে সরকারের এক সচিবসহ তিন কর্মকর্তার নামে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার এ আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল। একইসাথে গাছ কাটা বন্ধ করে রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম স্থগিত এবং যে নকশার ভিত্তিতে এ কার্যক্রম করা হচ্ছে তা আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ৬ মে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো: শামিম আখতার এবং চিফ আর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ মীর মনজুর রহমানকে ই-মেইলে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ করে রেস্টুরেন্ট/দোকান স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ। নোটিশ দেয়ার পর তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো: মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে আদেশ দেন। আদালতের রায় উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যবসায়িক স্বার্থে রেস্টুরেন্ট/দোকান প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা রায়ের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে নোটিশে উল্লেখ করেন মনজিল মোরসেদ।
অন্য দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে গত ৯ মে হাইকোর্টে রিট করেছেন ছয় সংগঠন ও এক ব্যক্তি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী ওই ৬ সংগঠন ও এক ব্যক্তির পক্ষে এ রিট দায়ের করেন। রিটকারী সংগঠন ও ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। এর আগে গত ৬ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান তারা।

 



আরো সংবাদ