১১ মে ২০২১
`

করোনাতেও চলছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিন মেগা প্রকল্পের কাজ

-

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব মোকাবেলা করে প্রায় ৩০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এগিয়ে চলছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিনটি মেগা প্রকল্পের কাজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে এই তিন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ।
প্রকল্পগুলো হলো বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল যার প্রকল্প ব্যয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, দোহাজারী ভায়া কক্সবাজার ঘুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ও ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্প ব্যয় এক হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৬৬.৫০ ভাগ, রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ ৫৪ ভাগ ও ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫০ ভাগ এগিয়ে গেছে বলে গতকাল বিকেলে নয়া দিন্তকে নিশ্চিত করেছেন বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর পরিচালকগণ।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিন মেগা প্রকল্পর মধ্যে, দোহাজারী-কক্সবাজার ভায়া মিয়ানমার সীমানা ঘুনদুম পর্যন্ত ১২৯ কিলোমিটার প্রস্তাবিত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসছে চার হাজার ৯১৯ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং এডিবির ঋণ ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা রয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে প্রথম ধাপে দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় প্রথম ভাগে বা লটে দোহাজারী-রামু রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আর দ্বিতীয় ভাগের বা লটে রামু-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয় একই বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে।
এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পরই দ্বিতীয় ধাপে কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত ঘুনদুম পর্যন্ত অবশিষ্ট ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলপথ প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) প্রকৌশলী মফিজুর রহমান।
চট্টগ্রাম দোহাজারী ভায়া ঘুনদুম রেললাইন প্রকল্পে রয়েছে ৯টি নতুন রেলওয়ে স্টেশন দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকোরিয়া, ডুলহাজার, রামু, ইসলামাবাদ ও কক্সবাজার সদর রেলস্টেশন, ৩৯টি ছোট ও ব্রিজ, ১৭৬টি কংক্রিট বক্স কালভার্ট, ৫২টি রাউন্ড কালভার্ট (পাইপ কালভার্ট), এ ছাড়াও ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন রেললাইনে অত্যাধুনিক অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থাও সংযোজন করা হবে। এ ছাড়া কক্সবাজার সৈকতে আইকোনিক রেলস্টেশন নির্মিত হবে যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম লটের কাজের মধ্যে রয়েছে চুনতি অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে বন্যহাতি অবাধে চলাচলের জন্য চারটি নিরাপদ পথ তৈরি করা হবে (এর মধ্যে দু’টি আন্ডার পাস ও একটি অবার পাস নির্মিতি হবে যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশেই হচ্ছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় লটে রয়েছে তিনটি আন্ডার পাস তা হবে রামু ফুটবল চত্বরে এবং অপর দু’টি হবে বাকখালী নদীর কক্সবাজার প্রান্তে।
আর এই নতুন রেলপথটি তৈরি করতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উভয় দিকে প্রায় এক হাজার ৭৪১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে রেলপথ প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) প্রকৌশলী মফিজুর রহমান, নয়া দিগন্তকে জানান, প্রকল্প কাজ চলমান অবস্থায় বৈশ্বিক মহামারী করোনার ধাক্কা লাগে। এ কারণে প্রথম দফায় বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শুরু হয়। এর মধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এগিয়ে চলছে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৫৪ ভাগ কাজ এগিয়েছে। আগামী ২০২২ সালের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
অপর মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল খননসহ প্রকল্প কাজ খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ইতোমধ্যে চলতি মার্চ পর্যন্ত ৬৬.৫০ ভাগ এগিয়েছে প্রকল্পের কাজ ।
গত বছরের নভেম্বরের ওই প্রকল্পে একটি টিউব খননকাজ সম্পন্ন হয়। এদিকে গতকাল পর্যন্ত অপর টিউব খননকাজ প্রায় ৯৫০ মিটার সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী হারুনর রশিদ চৌধুরী। নদীর তলদেশে ২.৪৫ কিলোমিটার ও দুই প্রান্তের তীরসহ টানেলের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩.৪ কিলোমিটার আর নদীর পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ এই প্রকল্পের সর্বমোট দৈর্ঘ্য হবে ৯.৩৩ কিলোমিটার। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এতে প্রকল্পসহায়তা হচ্ছে পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং সরকারের রয়েছে চার হাজার ৪৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘির একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে মাল্টি লেন রোড টানেল নির্মাণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ দেশের উন্নয়নের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেতু ও সড়ক মন্ত্রণালয় ও চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।
নদীর তলদেশে ২.৪৫ কিলোমিটার ও দুই প্রান্তের তীরসহ টানেলের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩.৪ কিলোমিটার আর নদীর পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাশের সংযোগ সড়কসহ এই প্রকল্পের সর্বমোট দৈর্ঘ্য হবে ৯.৩৩ কিলোমিটার, এ ছাড়া আনোয়োরা প্রান্তে ৭২৭ মিটারের একটি উড়াল সড়ক বা ফ্লাইওভারসহ ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেন সড়ক নির্মিত হবে যা আনোয়ারা চাতুরী চৌমুহনীতে এসে চট্টগ্রাম আনোয়ারা বাঁশখালী পিএবি সড়কের সাথে মিলিত হবে অপর প্রান্ত মিলিত হবে নগরীর পতেঙ্গা নেভাল অ্যাকাডেমি পয়েন্ট দিয়ে মূল সড়কে। নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে মূল টানেলের বেস হবে ১২ মিটার। এর ভেতরেই দুই পথে আলাদাভাবে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা থাকছে।
কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী হারুনর রশিদ চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সার্বিকভাবে ৬৬.৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২২ সালের বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে মাল্টি লেন রোড টানেল প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্নের প্রত্যাশা করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত অগ্রাধিকার প্রকল্প ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প কাজ গতকাল পর্যন্ত সার্বিকভাবে ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন ওই প্রকল্পের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর (পিডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ।
জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক হাজার ১৯৫ কোটি টাকাসহ সর্বসাকুল্যে (ভূমি অধিগ্রহণসহ) ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।
গতকাল পর্যন্ত পানি শোধনাগার, জলাধার (রিজার্ভার) ও পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপনের কাজসহ ওই প্রকল্পের প্রায় ৫০ ভাগ কাজ এগিয়ে গেছে।
জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী জৈষ্ঠপুরার ভান্ডালজুড়ি এলাকায় নদীর তীরে ও দুই পাহাড়ের পাদদেশে ৪১.২৬ একর জায়গায় চলছে ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি মেগা প্রকল্প তথা পানি শোধনাগার স্থাপনের কাজ।
একই সাথে ওই প্রকল্পের অধীনে পটিয়া বাইপাস এলাকায় পাঁচ একর জায়গায় ও আনোয়ারা দৌলতপুর মৌজায় ২.৯৪ একর জায়গায় পৃথক দুটো জলাধার নির্মাণের কাজও একই সাথে এগিয়ে চলছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকায় পানি সরবরাহ প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করেছিল।
চট্টগ্রাম নগরি, পশ্চিম পটিয়া ও আনোয়ারা কর্ণফুলীর শিল্পাঞ্চল এলাকার পানিসঙ্কট দূরীকরণ এবং নগরির পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ওয়াসার অন্যতম প্রকল্প বোয়ালখালী ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প। আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ১০ লাখ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় আসবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সাথে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল পরবর্তীতে আবার সমীক্ষা শেষে প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে তা এক হাজার ৯৯৫ কোটি টাকায় রূপান্তর করা হয়। এবং কোড়িয়ান এক্সিম ব্যাকের সাথে নতুনভাবে চুক্তি সম্পাদনের পরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক ৮২৫ কোটি টাকা ও অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।



আরো সংবাদ


খালেদা জিয়ার ভুয়া করোনা রিপোর্ট ছড়ানোর অভিযোগ (১০২৫৭)যেভাবে সুয়েজ খাল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স (৫৮৯৮)বাবার লাশ দেখতে মাওয়া ঘাটে মিনি ট্রাকে অপেক্ষায় ১০ যাত্রী (৫১৭২)৫ বছর আগেই করোনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল চীন! (৫১৪৩)যমুনায় লাশের মিছিল, করোনায় মৃতদের ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উত্তরপ্রদেশে (৪৬৯৭)ভারতে করোনা রোগীদের অন্ধ করে দিচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (৪২৫৩)খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিনের তথ্য প্রকাশ পেল : ওবায়দুল কাদের (৩৬৯৫)ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপে বিশ্বের প্রতি দাবি জানালেন এরদোগান (৩৫৩৮)জেরুসালেমে অব্যাহত সহিংসতা, বৈঠকে বসছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ (৩৩৫২)সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিৎসার নজির এ দেশে রয়েছে : মান্না (৩১৯২)