০৭ মে ২০২১
`

বগুড়া জেলা গঠনের ২০০ বছর উদযাপন হচ্ছে আজ

-

১৩ এপ্রিল বগুড়া জেলা গঠনের ২০০ বছর। মহামারী করোনার কারণে এ দিনটি সীমিত পরিসরে উদযাপন হচ্ছে। সোমবার বগুড়া শহরের অভিজাত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ বগুড়া জেলা গঠনের ২০০ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া ইতিহাসচর্চা পরিষদের সভাপতি প্রবীণ চিকিৎসক সি এম ইদরিস। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০ বছর আগে ১৮২১ সালের ১৩ এপ্রিল বগুড়া জেলা গঠনের সরকারি আদেশ জারি করা হয়। তাই জেলা গঠনের ২০০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য বগুড়া ইতিহাসচর্চা পরিষদ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, বগুড়ার ইতিহাস শুধু ২০০ বছরের ইতিহাস নয়। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে বগুড়া ছিল মৌর্য শাসনাধীনে। মৌর্য শাসনের পর এ অঞ্চলে চলে আসে গুপ্তযুগ। এরপর শশাংক, হর্ষবর্ধন, যশোবর্ধন পাল ও সেনরাজ বংশ। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি রাজাদের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল প্রাচীন জনপদ বগুড়া তথা রাজধানী পুন্ড্রবর্ধন। বর্তমান মহাস্থানগড়ে যার ধ্বংসাবশেষ আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাই স্বভাবতই বলা যেতে পারে যে, বগুড়ার আছে হাজারো বছরের এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। এই হাজারো বছরে বগুড়া দেখেছে হিন্দু শাসন আমল, সুলতানি আমল, নবাবী আমল, ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল। একদা অনেক মনীষী, পর্যটক, পীর-ফকির, আউলিয়ার পদচারণায় ধন্য হয়ে উঠেছিল এই জনপদ। দীর্ঘ সময় ধরে ছিল এই বগুড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থকেন্দ্র। হজরত শাহ সুলতান বলখী রহ্: মাহী সাওয়ারের আগমনে এ অঞ্চলে বিকাশ ঘটে ইসলামী সভ্যতার। কিংবদন্তী বেহুলা- লক্ষ্মিন্দরের ঘটনার স্মৃতিও ধারণ করে আছে বগুড়ার মাটি। তিনি বলেন, বগুড়ার নব জাগরণ ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালের ১৩ এপ্রিল যখন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে রাজশাহী জেলা থেকে কেটে বগুড়া জেলার সৃষ্টি করে তখন। সেই থেকে বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বিভিন্ন এলাকা সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান বগুড়া জেলার মানচিত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বগুড়া জেলা এখন উত্তরবঙ্গের গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার বলে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। দুইশত বছর আগে বগুড়া জেলা সৃষ্টির পর থেকে এই জেলার সৃষ্টিশীল প্রথিতযশা কিছু মানুষ মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করে এই জেলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাদেরই প্রচেষ্টায় বগুড়া এখন বাংলাদেশের মধ্যে একটি অন্যতম উন্নত জেলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান বাংলাদেশ পর্যায় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বিগত ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর বগুড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের গবেষণাকর্ম, প্রকাশনাগুলো সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন গবেষণাকর্ম তথা পাণ্ডুলিপি পুস্তকগুলো পরিষদের লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বেলা ১১টায় বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে বগুড়া জেলা গঠনের ২০০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় আলোচনা সভা ও ২০০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘বগুড়া কথা’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের উপদেষ্টা ডা: মশিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল করিম দুলাল, সহসভাপতি মতিউল ইসলাম সাদী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রাজিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট শের আলী, রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী, নির্বাহী সদস্য জিয়াউর রহমান, রেজাউল বারী ঈশা, ইনছার আলী, জহুরুল হক প্রমুখ।



আরো সংবাদ