১৪ এপ্রিল ২০২১
`

কেরানীগঞ্জে খালের তীরে অপরিকল্পিত ভবন

-

ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খালের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শতাধিক বহুতল ভবন। এসব ভবনের বেশির ভাগের নেই কোনো ধরনের অনুমোদন, মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। এখনই যদি প্রশাসন এসব বিল্ডিংয়ের ওপর নজরদারি না দেয়, আবারো ঘটতে পারে মধ্য চড়াইলের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে এলাকাবাসী।
কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ছোট বড় খাল। এসব খালের বেশির ভাগই বেদখল হয়ে গেছে। যেসব খাল আংশিক দখল হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শুভাঢ্যা খাল, আটি খাল, কলাতিয়া খাল ইত্যাদি। এসব খালের দুই তীর ঘেঁষে গড়ে উঠৈছে বৈধ-অবৈধ অনেক বহুতল ভবন।
তবে এসব ভবনের বেশির ভাগের নেই কোনো প্ল্যান কোড, রাজউকের অনুমোদন অথবা সঠিক নকশা। স্থানীয়রা যে যেভাবে পেরেছে কোনো নিয়মনীতি না মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। এর ফলে প্রায় সময় ঘটে ভবন হেলে পড়ার মতো দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে শুভাঢ্যায় তিন থেকে চারটি বাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল শুভাঢ্যা কালিবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি তিনতলা ভবন হেলে পড়েছে। ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি শুভাঢ্যা খালের বেগুনবাড়ি ব্রিজের কাছে একটি পাঁচতলা ভবন হেলে পড়ে। একই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি কাজীবাড়ি মোরে একটি ছয়তলা ভবন হেলে পড়ে। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কালিন্দী ইউনিয়নের মধ্য চড়াইল এলাকায় একটি ডোবায় উল্টে যায় তিনতলা একটি ভবন। এ ঘটনায় আশপাশের আরো পাঁচটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
এলাকাবাসী বলছেন প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবেই এ রকম দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দাবি করেন, এখনই প্রশাসনের উচিত সঠিকভাবে তদারকি করে ব্যবস্থা নেয়া, অন্যথায় আবারো দেখতে হবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিন দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা খাল, আটি খাল ও কলাতিয়া খালের তীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। এসব বিল্ডিংয়ের কোনো অনুমোদন নেই। যে যেভাবে পেড়েছে ভবন নির্মাণ করেছে। খালের তীর ঘেঁষে নির্মাণ করায়, ঝুঁকিতে রয়েছে ভবনগুলো।
শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য রমজান মেম্ব^র নয়া দিগন্তকে বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সাথে সাথে অনেক তৎপরতা দেখায়; কিন্তু পরে আর কিছুই হয় না। প্রশাসন যদি সঠিকভাবে মনিটরিং করে তা হলে বারবার দুর্ঘটনাগুলো ঘটে না। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি করা উচিত।
কলাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, যারা খালের তীরে বাড়ি তৈরি করেছে তারা তাদের নিজস্ব জায়গায়ই করেছে। তবে খালের তীর ঘেঁষে নির্মাণ করায় ভবনগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবন নির্মাণে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। বর্ষার সময় যখন খালে পানি আসে তখন খালের তীরের মাটি নরম হয়ে যায়। তখন ভবন হেলে পড়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্য চড়াইলের দুর্ঘটনা থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, খাল অথবা নদীর পাড়ে যেসব অপরিকল্পিত ভবন নির্মিত হয়েছে তা অতিদ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে। আবার যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে না পারে সে বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ইতোমধ্যে মধ্য চড়াইল এলাকায় যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার আশপাশের কয়েকটি বাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে । খাল, জলাশয় ও নদীর তীরে যেসব বহুতল ভবন আছে সেগুলো রাজউককে সাথে নিয়ে আমরা মনিটরিং করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 



আরো সংবাদ