১২ এপ্রিল ২০২১
`

মানুষের মনে যেন না হয় দেশ পুলিশি রাষ্ট্র

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের উদ্দেশে হাইকোর্ট
-

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মহসিন হাসানের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় অনুতাপ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। গতকাল সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের তলবাদেশে হাজির হয়ে এসপি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন।
শুনানির সময় আদালত পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতের উদ্দেশে বলেন, কথায় পটু হলে চলবে না, কাজে পটু হতে হবে। আপনার কার্যক্রমের মাধ্যমে সবকিছু সমন্বয় করে আপনি সেখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবেন, যাতে পুলিশ ভীতিকর না হয়ে বন্ধু হয়। আদালত আরো বলেন, আপনাদের অনেক দক্ষ পুলিশ অফিসার আছেন, যারা অনেক সুনাম অর্জন করেছে। আপনাকেও সে জায়গায় যেতে হবে। আপনি তো রাষ্ট্রপতি পদক পেয়েছেন। আপনাদের যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সেটা কাজে লাগান। সমাজকে একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে নিয়ে যান। রাষ্ট্রের এ অর্গানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করাই দক্ষতা।
আদালত আরো বলেন, কারো জন্য ভীতিকর না হয়ে তাদের কর্মকাণ্ডে মানুষের বন্ধু হতে হবে। পত্র-পত্রিকায় যা দেখলাম, তা যদি কুষ্টিয়ার বাস্তব চিত্র হয়, তা হবে জাতির জন্য ভয়ঙ্কর। এমন যাতে মানুষের মনে না হয় যে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না। জাতি উৎকণ্ঠিত, এটা নিরসন করার দায়িত্ব আপনাদের।
আদালতে এসপির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আহমেদ ইশতিয়াক। অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাহেরুল ইসলাম। প্রিজাইডিং অফিসারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও জামিউল হক ফয়সাল।
এর আগে এস এম তানভীর আরাফাত ক্ষমা প্রার্থনা করে আদালতকে জানান, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে চিনতে পারেননি। তাই এমন অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি দায়িত্ব পালনে আরো সতর্ক হবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর কখনো হবে না। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছেন। একইসাথে সেই প্রিজাইডিং অফিসার ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসপিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আবেদনে এসপি আরো বলেন, বিচার বিভাগের জন্য আমার মনে সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র অসম্মান দেখানোর কথা দূরে থাক, বরং বিচার বিভাগের দেয়া কাজে নিয়োজিত হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। এ ঘটনায় আমি মনের গভীর থেকে অনুতপ্ত। আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মহসিন হাসানের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় গত ২০ জানুয়ারি পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। সে অনুসারে সকালে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চান পুলিশের এ কর্মকর্তা। গত ১৬ জানুয়ারি ভেড়ামারা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মহসিন হাসান নির্বাচন কমিশনে একটি অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের একটি অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও দেয়া হয়।

 

 



আরো সংবাদ