০৭ মার্চ ২০২১
`

রাজশাহীতে বিয়ের শর্তে ধর্ষক চিকিৎসকের জামিন

দেনমোহর ৫০ লাখ টাকা
-

রাজশাহীতে আদালতে বিচারকের উপস্থিতিতে বিয়ে করে অবশেষে জামিন পেয়েছে ধর্ষণ মামলার আসামি এক চিকিৎসক। গতকাল বুধবার রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে আসামিকে জামিন দেন আদালতের বিচারক মো: মনসুর আলম। বিয়েতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা নগদ পেয়েছেন নববধূ। আর বাকি রয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
আসামির নাম এস এম সাখাওয়াত হোসেন রানা (৪৬)। সে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার। আর ভিকটিম নারী একজন শিক্ষানবিস আইনজীবী (২৭)। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এই নারীর (২৭) গ্রামের বাড়ি।
ডা: রানা রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকত। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপজেলায়। তার স্ত্রী-সন্তানও আছে। এই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৫ জুলাই সে গ্রেফতার হয়। এরপর থেকে সে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিল। এরই মধ্যে গত ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। প্রায় ছয় মাস কারাগারে থেকে বিয়ের শর্তে জামিন পেল ডা: রানা। আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, ডা: রানা বিবাহিত। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। আর ভুক্তভোগী নারী অবিবাহিত। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের পরিচয়। এরই মধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর নানা কায়দায় বিশ্বাস স্থাপন করে এ চিকিৎসক ওই নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু কিছুতেই বিয়ে করছিল না। এ কারণে ওই নারী তাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।
গত ২৫ জুলাই ডা: রানা ওই নারীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দেখিয়ে বলে, তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় এ ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেয়া হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে ডা: রানা ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই ভিডিওচিত্র নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন ওই নারীর বান্ধবী বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকিয়ে জাতীয় জারুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ ডা: রানাকে সেখান থেকে আটক করে আনে। এরপর ওই নারী বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় পর্নোগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
বিয়ের পর ওই নারী গতকাল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ডা: রানার বাবা গত সোমবার তার ছেলেকে বিয়ে করতে আমাকে প্রস্তাব দেন। অনেক কিছু ভেবে আমি রাজি হয়ে যাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আসামিকে বুধবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বিচারক সিদ্ধান্ত দেন, আদালতেই তাদের বিয়ে হবে। সে অনুযায়ী বুধবার ডা: রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর বিচারকের সামনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

 



আরো সংবাদ