০১ ডিসেম্বর ২০২০

পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে ভূমি কর আদায়

আগামী জুলাইয়ে সারা দেশে চালু : ১৯ মৌজা নিয়ে শুরু
-

অনলাইনে শুরু হয়েছে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান কার্যক্রম। দেশে বা বিদেশে যে যেখান থেকে ইচ্ছুক অনলাইনেই তার ভূমিকর প্রদান করতে পারবেন। গতকাল বুধবার ‘হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার পাইলটিং (প্রথম পর্যায়) কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ৮ জেলার ৯টি উপজেলাধীন ৯টি পৌর/ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৯টি মৌজা নির্বাচন করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি সংস্কার বোর্ড এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার পাইলটিং প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) প্রদান করা যাবে। ভূমি কর প্রদানের সাথে সম্পৃক্ত দেশের তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ এ সেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে মানুষের ভূমিসংক্রান্ত হয়রানি কমবে এবং ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধ হবে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহৎসংখ্যক ভূমিসেবা গ্রহীতাদেরকে স্বল্প ব্যয়ে, স্বল্প সময়ে ও হয়রানি মুক্তভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আবহমান কাল থেকে প্রচলিত বিধি-বিধানের আলোকে চালুকৃত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় পদ্ধতি ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে।’ আগামী বছরের জুলাই মাস নাগাদ দেশব্যাপী অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।
ভূমি সচিব মো: মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রাজস্ব আদায়ের পাইলটিং কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্বাচিত ভূমি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ দিকে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপ্ত দাখিলার বৈধতা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার একটি পরিপত্র জারি করে। ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারসহ মামলা সম্পর্কিত তিনটি সফটওয়্যারের পাইলটিংয়ের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৯টি উপজেলার ৯টি পৌর/ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৯টি মৌজা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি পৌর ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৩টি মৌজা। সেগুলো হচ্ছেÑ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও দক্ষিণ মতলব উপজেলার অন্তর্গত মিরপুর, গুদারারচর, নোয়াগাঁও, রুদ্রগাঁও, ভাটিরগাঁও, চরহোগলা, মোবারকদি ও ১৭৬ নম্বর ঢাকিরগাঁও মৌজা, মানিকগঞ্জ সদরের বনগ্রাম চক ও গঙ্গাধর পট্টি মৌজা, কিশোরগঞ্জ সদরের করমূলী ও মারিয়া মৌজা এবং জামালপুর সদরের সাতপাকিয়া মৌজা। চারটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অন্তর্গত ছয়টি মৌজা হচ্ছেÑ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলাধীন পাটগাতি ইউনিয়নের অন্তর্গত টুঙ্গিপাড়া মৌজা, ঢাকার সাভার উপজেলাধীন বাগধনিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর ও আনন্দপুর মৌজা, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাধীন খাসখামা ইউনিয়নের হাইলধর ও মালঘর মৌজা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর ইউনিয়নের “দেওভোগ ‘ম’ খণ্ড” মৌজা। অনুষ্ঠানে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কিভাবে অনলাইনে বিকাশ ও রকেট অ্যাকাউন্ট থেকে ভূমি কর দেয়া যাবে সে প্রক্রিয়া দেখানো হয়।

 


আরো সংবাদ