০১ ডিসেম্বর ২০২০

নোয়াখালীতে দুর্ধর্ষ ক্যাডার মিজান বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

-

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ক্যাডার মিজান বাহিনীর অত্যাচারে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিজান ও তার বাহিনীর সদস্যরা। একটি প্রভাবশালী দলের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করার সাহসও কারো নেই।
সরেজমিন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, এক সময়ের সিএনজিচালক থেকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মিজান বাহিনীর প্রধান মিজানুর রহমান দুর্ধর্ষ ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা নামক স্থানে মিজান বাহিনী একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। মিজান বাহিনী এলাকায় খুন, ধর্ষণ, মাদক কারবার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলসহ সব অপকর্মের সাথে জড়িত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ থানায়।
মিজান বাহিনীর প্রধান মিজানুর রহমান (৫০), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত তোফাজ্জল আলমের ছেলে। গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পেশকার হাট রাস্তার মাথায় বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগের ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করে মিজান। এর মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বসুরহাট পপুলার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক জয় বাদি হয়ে মিজান বাহিনী প্রধান মিজানকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মো: হানিফ সবুজ জানান, মিজান বাহিনী হামলা চালিয়ে গত ২০১৪ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা গোলাম মাওলা সারেংকে পিটিয়ে হত্যা করে। মিজান ও তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু সেই মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি। এ হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে আমাদের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ ছাড়াও এলাকার আহসান উল্যাহ, আলা উদ্দিন নেতা, পারভেজ, হানিফ মিয়া, কাশেম মেম্বারসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি মিজানের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।
এ আক্রমণে তার বাহিনীর কোনো ক্ষতি না হলেও সে উল্টো তার স্ত্রী রাহেনা আক্তার মায়াকে বাদি করে ১০ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি মেম্বার আবুল কাশেম জানান, মিজান বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। মিজান তার বাড়ির জাহানারা বেগমকে ত্রাণ ও শাড়ি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা বিষয়টি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে জানান।
এ ব্যাপারে মিজান বাহিনীর প্রধান মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার প্রতিপক্ষ মিথ্যা অপপ্রচার করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আরো সংবাদ