০২ ডিসেম্বর ২০২০

হাইকোর্টের আদেশে সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে বাসায় তুলে দিলো পুলিশ

রাতেই বসলেন আদালত
-

উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে তাদের বাবা মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের গুলশান ২-এর ৯৫ নম্বর সড়কের বাসায় উঠিয়ে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে গুলশান থানা পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার রাতে সাইফুর রহমান জানান, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাত ৯টা ৪০ মিনিটে টেলিফোনে অবগত করেন যে, তিনি আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িতে উঠিয়ে দেন এবং বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের অনতিবিলম্বে বাসায় প্রবেশ নিশ্চিতে নির্দেশ দেন। কয়েকটি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনার পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, দুই মেয়েকে সোমবার রাতেই ওই বাড়িতে প্রবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করার পর রাতেই গুলশান থানার ওসি সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে টেলিফোনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবেন। এ ছাড়া ১ নভেম্বর পর্যন্ত ওই বাসায় দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি গুলশান থানার ওসি-সহ ১ নভেম্বর দুই মেয়ে এবং ওই বাড়িতে থাকা আঞ্জু কাপুরকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এর আগে দুই বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে জানান, বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তাদের বাসায় উঠতে দিচ্ছে না। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। মুশফিকা মোস্তফা বলেন, আমরা বাবার বাসায় উঠেছি। এবার বাসায় উঠতে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে দুই বোনকে তাদের বাবার বাসায় উঠিয়ে দিয়ে এসেছি এবং বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।
এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সব প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ কাঠা জমির উপর বাড়িটি। গৃহকর্তার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে তার দুই মেয়ে অবস্থান নিয়েছেন বাড়ির সামনে। ওই দুই বোনের দাবি, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না।
মুশফিকা সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা তাদের মাকে নিয়ে গুলশানের এই বাসাতেই সংসার শুরু করেছিলেন। তাদের জন্ম এই বাড়িতে। ২০০৫ সালে তাদের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। পরে আঞ্জু কাপুর নামে এক ভারতীয় নারীকে তাদের বাবা বিয়ে করেন। তিনি একাই এখন এই বাড়ির ভোগদখল করছেন। গত ১০ অক্টোবর মোস্তফা জগলুল মারা যান। মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ পেশায় পাইলট ছিলেন। তিনি সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই। ভাই-বোনদের মধ্যে ফেরদৌস ওয়াহিদ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে নেই।


আরো সংবাদ