২৫ অক্টোবর ২০২০
দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা

বাঁশখালী চাঁদপুর বেলগাঁও বাগানে উৎপাদন বেড়েছে

বাঁশখালীতে সিটি গ্রুপের চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান : নয়া দিগন্ত -

চলতি বছর উৎপাদনের শুরুতে প্রচণ্ড খরা ও মার্চের শুরুতে হানা দেয়া করোনাভাইরাস জনিত সঙ্কট কাটিয়ে উঠে চলতি বছরও দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গত বছর দেশে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯৬ হাজার ৬৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিল সর্বোচ্চ চা উৎপাদন।
দেশে এবার ১৬৭টি চা এস্টেট ও বাগানের ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬.৮৮ একরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪০ মিলিয়ন কেজি। এ পর্যন্ত উপাদন হয়েছে আগস্ট পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৩০৮ কেজি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৭৫ মিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ২৬ মিলিয়ন, মার্চে ১ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন, এপ্রিলে ২ হাজার ৩৬৫ মিলিয়ন, মে তে ৮ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন, জুনে ৮ হাজার ৯৬৩ মিলিয়ন, জুলাইয়ে ১২ হাজার ১৭৮ মিলিয়ন এবং আগস্টে উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩২১ মিলিয়ন কেজি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ও নির্দেশনা ছিলÑ দেশে ১ লাখ ৪০ হাজার মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন বৃদ্ধি করে নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করার উদ্যোগ গ্রহণ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ চা বোর্ড গ্রহণ করেছে নানামুখী কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি বাগানে প্রতিবছর কমপক্ষে আড়াই শতাংশ করে বাগান বর্ধিত করা। আর সেজন্য উন্নত মানের চারা প্রদান ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ আনুসাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করায় প্রতি বছরই চা বাগানের পরিধি ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে।
চা বোর্ডের হিসেব মতে, গত বছর জানুয়ারিতে ৪৯৫ মিলিয়ন কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ১১৪ মিলিয়ন, মার্চে ১৯১৭ মিলিয়ন, এপ্রিলে ৬১১০ মিলিয়ন, মেতে ৭৬৪৫ মিলিয়ন, জুনে১১.৬৬৭ মিলিয়ন, জুলাইতে ১১.১০৪ মিলিয়ন, আগস্টে ১৩.৫০৫ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ১৩.৩৮২ মিলিয়ন, আক্টোবরে ১৩.৪০৭ মিলিয়ন এবং নভেম্বরে উৎপাদন হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ মিলিয়ন, ডিসেম্বরে ৬ হাজার ৪২৩ মিলিয়ন কেজিসহ গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৯৬ হাজার ৬৯ মিলিয়ন কেজি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নিদের্শনার আলোকে দেশের চায়ের চাহিদা মেটাতে এবং পরনির্ভশীলতা কমিয়ে উপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে চা রফতানি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।
ইতোমধ্যে সরকারের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমগ্র দেশের চা বাগানে চলছে পরিধি বৃদ্ধির সাথে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করার কাজ।
প্রতিবছর গড়ে প্রতিহেক্টরে চা উৎপাদন হয় ১ হাজার ৫০০ কেজি। অপর দিকে সমপরিমাণ জমিতে ইস্পাহানী, ফিনলে, ডানকানসহ বেশ কিছু বাগানে ২ হাজার ৫০০ কেজি থেকে ৩ হাজার কেজি উৎপাদন ছাড়িয়ে যায়।
চা চাষের পরিধি ও উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মযজ্ঞে পিছিয়ে নেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র চা বাগান বাঁশখালীর চাঁদপুর বেলগাঁও বাগান মালিক কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগানের মোট আয়তন ৩ হাজার ৪৭২.৫৩ একর। পাহাড়ি ছোট বড় টিলা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানে এখন মাত্র ৬৩৮ একর জায়গায় চা উৎপন্ন হয়। ওই বাগানে চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কেজি, বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল বাসার বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগানে ২ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন চলতি বছর উৎপাদনের শুরুতে ছিল প্রচণ্ড খরা। আর মার্চে হানা দেয় করোনা সংক্রমণ। তারপরেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, গত বছর দেশে চা উৎপাদনে সেরা পাঁচে ছিল সিটি গ্রুপের বাঁশখালী চাঁদপুর বেলগাঁও চা এস্টেট। এবার আরো ভালো একটি সম্মানজনক অবস্থানে যাবে সিটি গ্রুপের এই চা এস্টেট।
চা বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী জানা গেছে, দেশে মোট নিবন্ধনকৃত ১৬৭টি টি এস্টেট ও চা বাগান রয়েছে। তাতে সর্বমোট ২লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬.৮৮ একরে চা উৎপাদন হয়ে আসছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৭৬টি এস্টেট ও ১৫টি চা বাগান (১লাখ ৫৬ হাজার ১৯১.৯৪ একর), হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে ২২টি টি এস্টেট ও ৩ চা বাগান (৫৪ হাজার ১৬৪.১৬ একর), সিলেট জেলায় রয়েছে ১২টি টি এস্টেট ও ৭টি চা বাগান(২৮ হাজার ৯৩৬.৩২ একর), চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে ১৮টি টি এস্টেট ও ৩টি চা বাগান (৩৪ হাজার ৫৬০.৪৫ একর), রাঙ্গামাটি জেলায় রয়েছে ১টি টি এস্টেট ও ১টি চা বাগান (৭৯৪.৯৪ একর), পঞ্চগড় জেলায় রয়েছে ৮টি চা বাগান (৪ হাজার ৮১৮.২৯৫ একর) এবং ঠাকুরগাঁওয়ে রয়েছে ১টি চা বাগান (৪০.৭৭একর)।


আরো সংবাদ