০২ ডিসেম্বর ২০২০

পদ্মায় নিখোঁজ ২ শিক্ষার্থীর ৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি : উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত

-

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম সূচনা ও তার ফুফাতো ভাই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রিমনের চার দিনেও সন্ধান মেলেনি। তারা আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন। তবে নিখোঁজদের স্বজনরা পদ্মায় নৌকা নিয়ে অন্তত লাশ দু’টি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে নৌকাডুবির পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। রোববার সন্ধ্যায় তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে। নিখোঁজ সাদিয়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা এলাকায় চাচা জালাল উদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। আর নিখোঁজ স্কুলছাত্র রিমনের বাড়ি নওগাঁ। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর লাশ পানিতে ভেসে ওঠে। কিন্তু প্রায় তিন দিন চেষ্টা করেও নিখোঁজ দুইজনকে আমরা পাইনি। তাই আমাদের ডুবুরিদল নদী থেকে উঠে গেছে। এখন আমরা অপেক্ষা করছি। কোথাও লাশ ভেসে উঠলে আমাদের খবর দেয়া হবে। তখন আমরা লাশ উদ্ধার করব।
এ দিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। রাজশাহী নৌ-পুলিশের কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে নৌকার দুই মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শনিবার দুপুরে নগরীর দামকুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। রাজশাহী নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহীর হারুপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে ১৫ জন যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে যায়। পরে মাঝিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী সূচনা ও তার ফুফাতো ভাই রিমন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।


আরো সংবাদ