২৩ অক্টোবর ২০২০
সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ

হত্যাকারীদের আড়াল করতেই আমার ছেলেমেয়েকে জেলে পাঠিয়েছে পিবিআই

-

রাজশাহীতে ভুক্তভোগী এক নারী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, তার মেয়ে ও ছেলেকে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) রাজশাহী কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দু’দিন আটকে রেখে চরম নির্যাতন করেছে এবং তার মেয়ের জামাই শরিফুল ইসলাম মুন্না হত্যা মামলায় আসামি করে তার মেয়ে ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। তিনি বলেন, আমার জামাই অর্থাৎ মেয়ের স্বামী হত্যার সাথে আমার মেয়েকেই আসামি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরআরইউ) অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন সানোয়ারা বেগম। তার বাড়ি নগরীর হাদির মোড় এলাকায়।
সানোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মোসা: সালমা বেওয়া (৩২) ও আমার ছেলে মো: শান্ত (২৫) তারা দু’জনেই বর্তমানে রাজশাহী জেলহাজতে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই আমার মেয়ে ও ছেলেকে জামাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। অথচ তারা ঘটনার কিছুই জানেন না। সানোয়ারা বেগম বলেন, জামাই মুন্না হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসাথে এই মামলায় অন্যায়ভাবে আমার মেয়ে ও ছেলেকে জড়ানোর সাথে যারা জড়িত তাদেরও শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানোয়ারা বেগম বলেন, গত ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে আমার জামাই শরিফুল ইসলাম মুন্না প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে ভাড়া মারার জন্য বের হন। ওই দিন রাত ১১টার দিকে আমার জামাই আমার মেয়ে সালমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন, আমাকে ইনজেকশন পুশ করেছে এবং আমি হাঁটতে পারছে না। তাড়াতাড়ি সিটিহাট এলাকায় চলে এসো। এ খবর পেয়ে আমার মেয়ে আশপাশের লোকজনদের বিষয়টি জানান।
এরপর সালমা লোকজন সাথে নিয়ে মেহগনি বাগানে গিয়ে দেখেন মুন্নার লাশ মাটিতে পড়ে আছে। আর তার থুঁতনির নিচে ও পিঠে একাধিক গুরুতর জখম। এ অবস্থায় পুলিশে খবর দেয়া হয়। শাহমখদুম থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং লাশটি উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে পিবিআই অফিস থেকে ডেকে পাঠানো হলে আমার মেয়ে সালমা ও ছেলে শান্ত দুইজনই বেলা ৩টার দিকে পিবিআই কার্যালয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর দুই দিন আটকিয়ে রেখে তাদের ওপর চরম নির্যাতন ও মারধর করা হয়। পরে তাদের মুন্না হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আব্দুল মান্নান নামে পিবিআইয়ের একজন অফিসার মেয়ে সালমা ও ছেলে শান্তকে দুই দিন আটকে রেখে চরম নির্যাতন ও মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


আরো সংবাদ