২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতিবঞ্চিত দুই শতাধিক চিকিৎসকের স্মারকলিপি

-

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পদোন্নতিবঞ্চিত মেডিক্যাল অফিসার ও গবেষণা সহযোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর তৃতীয়বারের মতো স্মারকলিপি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই শতাধিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কর্মকর্তা (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) স্মারকলিপি প্রদানকালে বলেন, তাদের সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গত দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত আছেন বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর প্রথম দফা আন্দোলন করেন তারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আরো একবার স্মারকলিপি দিয়ে দাবি দাওয়া পেশ করেন। এবার তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
গতকাল বিএসএমএমইউর মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, নিউরোলজি, নিউরো সার্জারি, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিকস, রিউম্যাটোলজিসহ প্রায় ৫৪টি বিভাগের চিকিৎসকরা ভিসি অধ্যাপক ডা: কনক কান্তি বড়–য়ার দফতরে অবস্থান নেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএসএমএমইউ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও স্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। যারা স্নাতকোত্তর করবেন, তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে একটি নীতিমালা ছিল। তখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলে তাদের স্ববেতনে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হতো। পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই পদে আত্তীকরণ করা হতো কিন্তু ২০১২ সালে সেই আইনটি অজানা কারণে রহিত হওয়ার অভিযোগ করেন এই চিকিৎসকরা। তারা জানান, বর্তমানে দুই শতাধিক চিকিৎসক পদোন্নতি বঞ্চিত অবস্থায় আছেন।
আন্দোলনকারী এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই পদোন্নতি বঞ্চিতদের অনেকের অবসরের সময় খুব ঘনিয়ে আসছে। তাদের অনেকেই গত ৮ বছর পদোন্নতি না পেয়ে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবেই কর্মরত আছেন। যদিও তাদের অনেকেই এফসিপিএস ও এমডি নামক বাংলাদেশের সেরা ডিগ্রিগুলো সম্পন্ন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, সরকারি সেক্টরে যেসব চিকিৎসক কর্মরত তারা চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই তাদের দ্রুত কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিপিসির মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু বিএসএমএমইউতে কর্মরত দুই শতাধিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন চিকিৎসক তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেও দীর্ঘদিন তারা পদোন্নতি বঞ্চিত।
আন্দোলনরত বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের দাবি, করোনার এই পরিস্থিতিতেও টেলিমেডিসিন সেবা, বহির্বিভাগের সেবা, ইনডোরে রাউন্ড, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ফিভার ক্লিনিক এবং কোভিড ইউনিটের রোগীদের সেবা প্রদানসহ সহকারী অধ্যাপক পদের সমমানের কর্মকর্তারা কাজে ব্যস্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মানকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, চিকিৎসকদের পদোন্নতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সিন্ডিকেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিন্ডিকেট কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভার আগে তাদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু সেই কমিটির মেয়াদ ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট প্রদান না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিএসএমএমইউর বিধিমালা থেকে চিকিৎসকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত ১৯৯৯ সালের নীতিমালাটি বাদ দেয়া হয়।


আরো সংবাদ