২২ জানুয়ারি ২০২১
`

জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ : মুসলিম লীগ

-

সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে গোটা পুলিশ প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। মহামারী করোনা মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসনের মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করে, সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের অসাধারণ ভূমিকাকেও যা ম্লান করে দিয়েছে। সত্যিকার অর্থে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সীমাহীন দুর্নীতি, একদলীয় গণতন্ত্র, বিরোধী দলকে বিকল করে রাখা, ভোটারবিহীন নির্বাচন, রাতে ভোট, মত প্রকাশে স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি কারণে সাধারণ জনগণের মনে রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের নিস্পৃহতা ও বিরাগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে শাহেদদের মতো সুবিধাভোগীদের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র, স্বাস্থ্যসেবা খাতের দৈন্যদশা প্রকাশিত হয়ে পড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও চিকিৎসাসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ত্রাণকার্যে অনিয়ম-পক্ষপাতিত্ব-দুর্নীতি প্রভৃতি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। হতাশা, ক্ষোভ, নিস্পৃহতা ইত্যাদির যৌগিক সম্মিলনে জনগণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি একধরনের আস্থা সঙ্কটে ভুগছে। জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৪৫তম পুনর্গঠন দিবসে পদার্পণ উপলক্ষে গতকাল শনিবার পল্টনস্থ প্রধান কার্যালয়ে দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরিউক্ত মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত আকারে আয়োজিত এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, অতিরিক্ত মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনী, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, মো: নূর আলম, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক বহুমুখী সঙ্কটের যে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে তা মোকাবেলায় নিরবচ্ছিন্ন জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। বিভিন্ন মহল থেকে বারবার সর্বদলীয় ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবকে সরকার অজানা কারণে গ্রাহ্য করছে না। এ বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় সংলাপ আহ্বানের জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। সভায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সুবিচারের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রদীপ-লিয়াকতদের মতো পথভ্রষ্টদের জন্যই প্রশাসনে যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবক তারাও আজ বিতর্কিত। প্রশাসনিক পদবি ও পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য প্রদীপ-লিয়াকতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটাই হতে পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ। বিজ্ঞপ্তি।



আরো সংবাদ