১৫ জুলাই ২০২০

সিকদার গ্রুপের এমডির বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

-

এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডিকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদারের রেঞ্জ রোভারে ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়িটি জব্দ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে সাদা গাড়িটি জব্দ করা হয়। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ- ১৮-৩৯৪৫।
এর আগে গত ১৯ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় সিকদার গ্রুপের মালিক জয়নুল হক সিকদারের ছেলে এবং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে. কর্নেল (অব:) সিরাজুল ইসলাম। হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে গত ৭ মে। ঘটনার ১২ দিন পরে এ মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডিবি উত্তরের ইন্সপেক্টর ফজলুল হক। তবে অভিযানে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কারণ চিকিৎসার কথা বলে মামলার দুই আসামি নিজেদের মালিকানাধীন আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশনের একটি উড়োজাহাজকে রোগীবাহী হিসেবে দেখিয়ে গত ২৫ মে দুপুরে তারা ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
মামলার এজাহারে লে. কর্নেল (অব:) সিরাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার (৫০) এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করেন। গত ৭ মে আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আসামি রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এএফএম শরিফুল ইসলাম গুলশানের এক্সিম ব্যাংক শাখায় যান। তারা এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যাংকটির এমডি হায়দার আলী খান ও এএমডি ফিরোজ হোসেনকে কৌশলে প্রস্তাবিত ঋণের টাকার বিপরীতে কোলেটারেল হিসেবে সিকদার গ্রুপের রূপগঞ্জের কাঞ্চনস্থ আদি নওয়াব আসকারী জুটমিলটি পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যান। দুপুর আনুমানিক ১২টায় সিকদার গ্রুপের রূপগঞ্জের প্রস্তাবিত প্রকল্প আদি নওয়াব আসকারী জুটমিলের জায়গাটি পরিদর্শন করেন এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। পরিদর্শনকালে সিকদার গ্রুপের প্রস্তাবিত ঋণের (৫০০ কোটি) টাকার বিপরীতে এই সম্পত্তির বন্ধকী মূল্যের বিশাল ব্যবধান রয়েছে বলে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডি মন্তব্য করেন। তদের মতের সাথে রন হক সিকদার দ্বিমত পোষণ করেন। পরে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে রন হক সিকদার তাদের পূর্বাচলের প্রকল্প স্যাটেলাইট সিটিতে আইকন টাওয়ারের জায়গাটি পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করেন। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে এক্সিম ব্যাংকের জরুরি একটি বৈঠক থাকায় এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা প্রথমে সেখানে যেতে রাজি হননি। তারপরও রন হকের বিশেষ অনুরোধে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডি পূর্বাচলে যান। তারা বাইরে থেকে জায়গাটি দেখেন। রন হক সিকদার প্রকল্পের ভেতরে ঢুকে সম্পূর্ণ জায়গাটি দেখতে বলেন। সময়স্বল্পতার কারণে এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রকল্পের ভেতরে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবুও সামাজিকতার খাতিরে রন হক সিকদারের অনুরোধ রাখতে প্রকল্পের ভেতরে যান। কিন্তু রাস্তা অপরিচিত হওয়ায় এবং সেখানে রন হক সিকদার এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির গাড়ি দেখতে না পেয়ে এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঢাকার দিকে রওনা হয়ে ৩০০ ফিট রাস্তায় ওঠেন। এ সময় তারা দেখতে পান ঢাকামুখী সড়কের পাশে রন হক সিকদার ও এনবিএলের এমডি গাড়িতে বসে আছেন। তাদের গাড়ি দেখতে পেয়ে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা গাড়ি থামান। এ সময় এনবিএলের এমডি গাড়ি থেকে নেমে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডিকে বলেন, তারা প্রকল্পের ভেতরে না যাওয়ায় রন হক অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরপর রন হক সিকদার এই ঘটনার জন্য এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাফ চাইতে বাধ্য করেন। রন হক সিকদার গাড়ির ভেতরে বসা অবস্থায় গ্লাস নামিয়ে তার পিস্তল বের করে হত্যার উদ্দেশে এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে গুলি করেন, যা এমডির বাম কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এমডি হতভম্ব হয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকেন, পুনরায় রন হক এমডিকে গুলি করার উদ্যত হলে তিনি গাড়ির পেছনে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। এরপর রন হক এক্সিম ব্যাংকের এমডির মোবাইল ফোন কেড়ে নেন, তাকে জোরপূর্বক নিজের গাড়িতে ওঠান। এক্সিম ব্যাংকের এমএমডিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির গাড়িতে ওঠান।
অভিযোগে আর বলা হয়, রন হক সিকদার ৩০০ ফিট থেকে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে বনানী সিকদার হাউজিংয়ে নিয়ে যান। এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে বাড়ির তৃতীয় তলায় নিয়ে যান রন হক সিকদার। সেখানে সিকদার গ্রুপের জমি ও সম্পত্তির কাগজপত্র দেখতে বাধ্য করেন। অন্য দিকে এক্সিম ব্যাংকের এএমডিকে বাড়ির ষষ্ঠ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রন হক সিকদার এএমডিকে বলেন, প্রতি কাঠার জমির দাম আড়াই কোটি টাকা, আর তুই কেন বললি প্রতি বিঘার দাম আড়াই কোটি টাকা? এখনই তোকে শেষ করে ফেলব। দিপু হক সিকদার এ সময় এএমডিকে মারার জন্য উদ্যত হন। এএমডি দুই ভাইয়ের কাছে মাফ চেয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দিপু হক সিকদার এমডিকে মারার জন্য নিচের তলার দিকে যান। তখন এএমডি তার কাছে এমডির প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও মাফ চান এবং তাকে না মারার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর এএমডি ও এমডির দুই পাশে দু’জন বিদেশী নিরাপত্তাকর্মী পাহারায় বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার তাদের প্রজেক্টের সবকিছু সঠিক আছে বলে ব্যক্ত করে তাদের অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে এমডির স্বাক্ষর নেন। ওই কাগজে সাক্ষী হিসেবে এএমডিরও স্বাক্ষর নেয়া হয়। স্বাক্ষর না করলে বিদেশী নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে টর্চার সেলে নিয়ে টর্চার করা হবে বলেও হুমকি প্রদান করা হয়।
ওইদিন বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দিপু হক সিকদারের নির্দেশে এই দুই ব্যাংক কর্মকর্তাকে তাদের বাবা জয়নাল হক সিকদারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ফটোসেশন করা হয়। এক্সিম ব্যাংকের এমডি, এএমডি ও দু’জন গাড়ি চালককে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রন হক সিকদার দুই ব্যাংক কর্মকর্তার ও ড্রাইভারদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মোবাইল ফোন ফেরত দেন এবং তাদের ছেড়ে দেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তিতে পাঠিয়েছিল সিকদার গ্রুপ।

 


আরো সংবাদ

এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের(ভিডিও) (৬৮৪৪)ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেব্রেনিৎসা স্টাইলে গণহত্যার আশঙ্কা! (৪৪১৫)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্যা নেপালে (৪২৭৬)বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়ালো (৪১৪৩)তুরস্ক-মিশরের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে ভয়াবহ সংঘাতের পথে লিবিয়া (৪০৪৪)ডিজির অনুরোধে রিজেন্টের সাথে চুক্তির অনুষ্ঠানে গিয়ে ছিলাম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী (৩৯৭৬)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্য নেপালে (৩৬৬০)রামকে নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া (৩৬১৫)তিনবার সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর বাড়ছে সুস্থতার হার (৩৪৬৬)ইসরাইলিরা যে ঘোষণায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আগুন দিল তুরস্কের পতাকায় (৩০৮২)