০৫ জুন ২০২০

খাদ্যসামগ্রী পেতে ডিএসসিসির হটলাইনে দিনে প্রায় হাজার কল অভাবী মানুষের

-

বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী পেতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) হটলাইনে দিনে হাজারের বেশি কল করছেন অভাবী মানুষ। এদের মধ্যে অনেক ঢাকার বাইরের বাসিন্দাও রয়েছেন। তবে দক্ষিণ সিটি এলাকার প্রকৃত অভাবীদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে ডিএসসিসি।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে রাজধানীতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। এদের মধ্যে রিকশা-ভ্যান চালক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অন্যতম। এ ছাড়া ছোটখাটো চাকরি করেন এমন মানুষ অভাবে পড়েছেন। এসব কর্মহীন নি¤œবিত্ত অসচ্ছল, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সে অনুয়ায়ী তিনি নিজে বিভিন্নস্থানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা হাত পেতে খাদ্যসামগ্রী নিতে পারেন না। তাদের জন্য হটলাইন চালু করেন মেয়র। এ হটলাইনে ফোন করলে প্রকৃত অসহায় মানুষকে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ দিনে ডিএসসিসির দুটি হটলাইন ০১৭০৯৯০০৭০৩ এবং ০১৭০৯৯০০৭০৪ নম্বরে মোট ১০ হাজার ১৭৪ জন ফোন করেছেন। এর মধ্যে ডিএসসিসি এলাকার ছিলেন দুই হাজার ৫৭৩ জন। এদের মধ্যে এক হাজার ৫৮৭ জনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে ডিএসসিসি। বাকিদের বাড়িতেও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। ডিএসসিসির সরবরাহকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু, দুই কেজি ডাল, দুই লিটার তেল, এক কেজি লবণ এবং একটি সাবান।
হটলাইনের দায়িত্বে থাকা ডিএসসিসির সিস্টেম এনালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন নয়া দিগন্তকে বলেন, গত ২৯ মার্চ থেকে হটলাইন চালুর পর আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। প্রচুর ফোন আসছে। গত ১১ দিনে আমাদের কাছে ১০ হাজারের বেশি কল এসেছে। গত ২৯ মার্চ কল করেছেন ১৯ জন, ৩০ মার্চ ১৩২ জন, ৩১ মার্চ ১৩৬ জন, ১ এপ্রিল ২১৭ জন, ২ এপ্রিল ৩০২ জন, ৩ এপ্রিল ১২৬৮ জন, ৪ এপ্রিল ১৪৭২ জন, ৫ এপ্রিল ১৩০২ জন, ৬ এপ্রিল ১৫৮৩ জন, ৭ এপ্রিল ১৭২১ জন এবং গতকাল ৮ এপ্রিল ২০২২ জন। প্রতিদিনই কলের পরিমাণ বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকে ঢাকা উত্তর সিটির এমনকি বাইরের জেলারও আছেন। তবে আমাদের এ উদ্যোগ শুধু দক্ষিণ সিটি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। কেউ কল করলে আমরা তার অবস্থান ও প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে নিবন্ধন করছি। এ পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি এলাকার দুই হাজার ৫৭৩ জনের নাম আমরা নিবন্ধন করেছি। প্রতিদিন পাওয়া নামের তালিকা ও ঠিকানা আমরা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেখান থেকে আমাদের কর্মীরা মোটরসাইকেলে করে বাসায় খাবারসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আসছে। গতকাল পর্যন্ত এক হাজার ৫৮৭ জনের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৯৮৬ জনের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যসচিব ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে বিব্রত বোধ করেন। তাদের জন্য আমরা এ হটলাইন সেবা চালু করেছি। প্রতিদিন অনেক ফোন আসছে। অনেক সময় ফোন এনগেজ্ড হয়ে যাচ্ছে। অভাবী মানুষের সেবায় আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 


আরো সংবাদ





justin tv