০৩ জুন ২০২০

মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে হচ্ছে করোনা হাসপাতাল

-

ছয় বছর ধরে পড়ে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালী মার্কেটকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখানে আইসোলেশন সেন্টার করা হবে। আগামী মাস থেকে এটির কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে ডিএনসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জানা যায়, এনসিসির অঞ্চল-৩ এর কার্যালয়ের সামনে ২০১৩ সালে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২১ বিঘা ১১ কাঠা জমির ওপর মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। মার্কেটটির বেজমেন্টে পাইকারি কাঁচামালের বাজার। নিচতলায় মাছ-গোশত-মুরগিসহ কাঁচাবাজার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় তৈরী পোশাক, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ষষ্ঠ তলা ফুডকোর্টের জন্য নির্ধারিত। এ ছাড়া এতে রয়েছে গাড়ি পার্কিং ও ময়লার ডাম্পিংয়ের স্থান, কসাইখানা, লিফট ও জেনারেটর। মার্কেটে দোকান রয়েছে এক হাজার ১৬৩টি। এর মধ্যে ৩৬০টি কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ। বাকি ৮০৩টি দোকান লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়ার কথা। মূলত কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে এ মার্কেটটি নির্মাণ করা হলেও কয়েক দফা বিজ্ঞপ্তি দিয়েও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে অন্য দোকানগুলো নিতেও কেউ আগ্রহ দেখায়নি। দোকান বরাদ্দের আবেদন যে কয়েকটি পাওয়া গেছে, তা-ও মোট দোকানের তুলনায় অপ্রতুল।
২০১৭ সালে এই মার্কেটে ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা দিয়ে উইমেন হলিডে মার্কেট চালু করেন সাবেক মেয়র আনিসুল হক। তবে ক্রেতাশূন্য থাকায় বর্তমানে সেটিও নেই। ফলে ছয় বছর ধরে পড়ে থাকায় মার্কেটের বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তরা ও টাইলস উঠে গেছে, কাচ ভেঙে গেছে। কবে নাগাদ মার্কেটটি চালু হবে, বলতে পারছেন না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ কারণে বর্তমান করোনাভাইরাসের মহামারী দেখা দেয়ায় গত ১৭ মার্চ এক অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম এ মার্কেটকে প্রয়োজনে হাসপাতাল হিসেবে দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ডিএনসিসি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ডিএনসিসির মার্কেটটি পরিদর্শন করে গেছেন।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা: মোমিনুর রহমান মামুন নয়া দিগন্তকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা মার্কেটটি দেখে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক আমার সাথে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসচিবও গত পরশু আমাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আমাদের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছেন। তারা এখানে করোনা রোগীদের আইসোলেশনের জন্য তিন হাজার বেডের হাসপাতাল করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন। আগামী মাসে এটি চালু হতে পারে বলেও তারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা ডিএনসিসির মহাখালী মার্কেটকে হাসপাতাল করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরকে বলেছিলাম। সে অনুযায়ী তাদের প্রতিনিধি মার্কেট পরিদর্শন করে গেছে। এ ব্যাপারে কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই এটি করোনা রোগীদের সেবায় হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হবে।
এ দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তিন হাজার শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে এই মার্কেট।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) আমিনুল হাসান বলেন, মহাখালীতে ডিএনসিসির যে মার্কেট আছে, আমরা তা নিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছি। সেখানে প্রায় তিন হাজার রোগী রাখা যাবে। এ ছাড়া বড় বড় জায়গাগুলোকে আমরা হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা হিসেবে হাতে নিয়েছি।
বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। নির্ধারণ করা হয়েছে আরো সাতটি হাসপাতাল, যেখানে শুধু করোনা রোগীদেরই চিকিৎসা দেয়া হবে। আর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কিছু অংশ করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


আরো সংবাদ