০৩ জুন ২০২০

জনশূন্য রাজধানীতে চোর ছিনতাইকারীর আনাগোনা

-

করোনা আতঙ্কে সারা দেশ প্রায় স্তব্ধ। একই সাথে রাজধানী ঢাকা প্রায় জনশূন্য। রাস্তার পাশাপাশি ঢাকার অনেক বাড়ি এখন ফাঁকা পড়ে আছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত অপরাধীরা। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও ছিঁচকে চোর আর ছিনতাইকারীর আনাগোনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে গ্রিন রোডসহ রাজধানীর বেশ কয়েক জায়গায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গ্রিন রোডে শনিবার দিবাগত রাতে একটি বাসায় গ্রিল ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাসার আলমিরা ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন।
কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র জানান, শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে গ্রিন রোডে চারতলা একটি ভবনে চুরির ওই ঘটনা ঘটে। বাসায় সিলেটের একজন ভাড়া থাকেন। এ সময় বাসার লোকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, বাসা থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে।
এ দিকে গতকাল সকালে রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকায় কয়েক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার লোকজন সকালে মাওয়া যাওয়ার উদ্দেশে রাস্তায় মাইক্রোবাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ছিনতাইকারী দল তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীরা মাদকাসক্ত বলে সূত্র জানায়। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানা যায়।
এ দিকে জনশূন্য রাজধানীতে অপরাধ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। বিশেষ করে দোকানদার ও করোনা আতঙ্কে যারা গ্রামের বাড়ি গেছেন এমন বাসা-বাড়ির ভাড়াটিয়ারা রয়েছেন চুরি আতঙ্কে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এখন সুনসান নীরবতা। খালি সড়কে কোথাও কোথাও দু-একটি রিকশা দেখা যায়। এমন জনশূন্য ঢাকায় অপরাধী ও মাদকসেবীরা অপরাধ করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। তবে পুলিশ বলেছে, মহানগরীতে সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলে রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী ও নাইট গার্ডদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। তবে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা স্বীকার করেন। রাস্তায় সন্দেহভাজন কাউকে মাস্ক পরা দেখলে তাদের জেরার মুখে পড়তে হবে।


আরো সংবাদ