২৭ মে ২০২০

নদীতে আটকা পড়েছে ছবির শুটিং ইউনিট

-

শুটিং বন্ধ করে সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে নদীতে আটকা পড়েছে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিট। এ ইউনিটে অন্য শিল্পীদের সাথে সিয়াম ও পরীমনিও রয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদের ঢাকায় ফেরা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে প্রযোজক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী শুটিংও করতে পারছেন না তারা।
গত বৃহস্পতিবার শুটিং বন্ধ করে ঢাকার পথে রওনা হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিট। মংলা থেকে রওনা হয়ে বেশ কিছু দূর আসার পর পানখালীতে তাদের আটকে দেয় কোস্টগার্ড। তারা জানায়, এত যন্ত্র ও মানুষ নিয়ে ঢাকায় ঢোকার জন্য পথে পথে বারবার অনুমতিপত্র দেখাতে হবে। কিন্তু অনুমতিপত্র না থাকায় সেদিন থেকেই তারা সেখানেই অবস্থান করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।
ছবির অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিডির পরিচালক মুশফিকুর রহমান জানান, তারা আর রওনা দেননি। মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পর তারা অনুমতি দিলে সেটা নিয়ে তারা ঢাকায় রওনা হবেন। পাশাপাশি শুটিং ইউনিটবাহী লঞ্চের মালিকও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নেবেন।
‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিটে রয়েছেন প্রায় ৭০ জন। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা শুটিং বন্ধ করে ঢাকার পথে রওনা হন। যেহেতু গল্প অনুযায়ী বেশির ভাগ শুটিংই লঞ্চে, তাই ফিরতি পথেও মাঝেমধ্যে কিছু কিছু শিল্পীর ইনচার্ট শট নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্থবির বিনোদন অঙ্গন। বাংলাদেশেও বন্ধ বিনোদনসংশ্লিষ্ট সব কাজ। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ২২ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সিনেমার সব ধরনের শুটিং, ডাবিং ও সম্পাদনার কাজ বন্ধ রেখেছে। তার পরও খুলনার মংলা ও সুন্দরবন এলাকায় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং চলছিল। এ নিয়ে প্রযোজক সমিতি থেকে হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়। কয়েক দিন আগে প্রযোজক ও পরিবেশক নেতারা বলেছিলেন, শুটিংয়ে প্রায় ২০টি শিশু আছে। কোনো শিশু যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তার দায়ভার ছবির প্রযোজক ও পরিচালককে নিতে হবে।
শিশুদের ভ্রমণের কাহিনী নিয়ে এই ছবির গল্প। এর বেশির ভাগ শুটিংই পানিপথে, লঞ্চে। সুন্দরবনে টানা ২৫ দিন শুটিং করে ছবির কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে শুটিং বন্ধের নির্দেশনা থাকায় টানা ১৩ দিন কাজ করে শুটিং বন্ধ হচ্ছে ছবিটির। প্রযোজক জানান, ১৩ দিনে ছবির ৫০ ভাগের মতো কাজ হয়েছে। তবে সুন্দরবনের ভেতরের ছয় দিনের কাজ শেষ করতে পেরেছেন তারা।
একটানা কাজ শেষ করতে না পারায় পরবর্তীকালে শুটিং শেষ করতে আরো লগ্নি বাড়াতে হতে পারে বলে জানান প্রযোজক। তিনি বলেন, ‘টানা কাজ করে শুটিং শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে আমরা সবাই শঙ্কিত। ইউনিটে প্রায় ২০টি শিশু আছে। যদিও আমরা শিশুদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি। তার পরও তাদের নিয়ে অনেকই চিন্তিত ছিলেন। সবকিছু বিবেচনা করেই টানা কাজ করা গেল না। এখন জুলাইয়ের আগে ছাড়া আর শুটিং করা যাবে না। ফলে পরবর্তীকালে শুটিং করলে কন্টিনিউইটি মেলানো কঠিন হবে। পাশাপাশি ছবিতে লগ্নিও অনেক বেড়ে যাবে।’
এ দিকে ঢাকায় ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তা করছে পুরো ইউনিট। এতগুলো মানুষ এক সাথে দীর্ঘ দিন বাইরে ছিলেন। এখন ঢাকায় ফিরলে তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতে পারে। ছবির পরিচালক আবু রায়হান বলেন, ‘যদিও ফিরতে পারি, লঞ্চ সদরঘাটে ভিড়লে আমাদের কোয়ারেন্টিনেও যেতে হতে পারে।’
ছবিতে অভিনয় করছেনÑ সিয়াম, পরীমনি, শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, কচি খন্দকার, আশীষ খন্দকার ও প্রায় ২০টি শিশু। শিশুদের ভ্রমণের গল্প নিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ থেকে ছবিটির চিত্রনাট্য করেছেন জাকারিয়া সৌখিন।


আরো সংবাদ