৩০ মার্চ ২০২০

ভয়াবহ আর্থিক দুশ্চিন্তায় না’গঞ্জের ৫ লাখ শ্রমিক

চিন্তার ভাঁজ গার্মেন্ট মালিকদের কপালে
-

ফতুল্লার একটি রফতানিমুখী গার্মেন্টে শ্রমিক পদে কাজ করেন আকলিমা। বাসের হেলপার স্বামী তপনকে নিয়ে দুই সন্তানসহ ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়া আর দৈনন্দিন খাবার নিয়ে ভয়াবহ আর্থিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। জানালেন, ‘আমাদের কী হবে তা বলতে পারছি না। কিভাবে খাবো কিভাবে বাসা ভাড়া দিবো। সামনে রোজা। গার্মেন্টের মালিক কই থেকে টাকা দিবো। মালামাল তো সরবরাহ বন্ধ। আর আমার স্বামী যে গাড়িতে কাজ করে সেটাও বুধবার থেকে বন্ধ করে দিবো। আমাদের কী হইবো, কেমনে বাঁচুম বলতে পারেন?’
আকলিমার মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ৫ লাখ শ্রমিক ভবিষ্যৎ আর্থিক দুশ্চিন্তায় পড়েছে। করোনার প্রভাবে গার্মেন্ট সেক্টরে একের পর এক অর্ডার বাতিল হওয়ায় মালিকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ।
বিশ্বের করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পোশাক খাত। সারা বিশ্বে সমাদৃত এই খাতটি হুমকির মুখে পড়লে দেশীয় অর্থনীতিতে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে। করোনা প্রভাবে এই সঙ্কট থেকে মুক্তি না মিললেও পোশাক কারখানার মালিকরা সরকারের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সেক্টরের ৮৭০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্ট রয়েছে ৫২৬টি। এখানে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪ জন শ্রমিক কাজ করে। এ ছাড়া ১০ হাজার হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করে প্রায় ২ লাখ শ্রমিক। এ ছাড়া জুট মিল ১৬টি, লবণ মিল ৭০টি, নিটিং ফ্যাক্টরি ১৮৯৫টি, পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ৪০টি লৌহ ও লৌহজাত দ্রব্য, ৪৮টি কেমিক্যালস, ১৭ টি ডাইং, ১৮৮টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ৮টি মেলামাইন ফ্যাক্টরি, ৩টি চুন ফ্যাক্টরি, ৩৫টি রি-রোলিং মিলস, ৭৫টি ক্যাবল ফ্যাক্টরি, ২টি হোসিয়ারি, ২০৭৫ টি জামদানি পল্লী (রূপগঞ্জ) ১ টি হ্যান্ডলুম (তাঁতের সংখ্যা ৪০টি), সাবান ফ্যাক্টরি ৫টি, ফ্যান ফ্যাক্টরি ৩টি, লাইট ফ্যাক্টরি ১টি এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে লাখো মানুষ। করোনার প্রভাবে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে শ্রমিকদের বেতন ভাতা কিভাবে দেবে তা নিয়ে পড়েছে বিপাকে।
বাংলাদেশের নিট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমএইর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, এ অবস্থায় সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে আমরা মারা পড়ব। তিনি বলেন, কয়েক শ’ কারখানার মালিকের কাছে ফোন আসছে, মেইল আসছে তাদের অর্ডার বন্ধ বা স্থগিত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে তৈরী পোশাক খাত। এটা থেকে উত্তরণের উপায় নেই। পুরো ইউরোপ বন্ধ হয়ে গেছে। পণ্য গ্রহণ করার মতো লোক নেই। যার কারণে অর্ডার বাতিল হয়েছে। বিশাল সঙ্কটের মুখে পড়তে যাচ্ছি আমরা।
এম হাতেম বলেন, সরকার যদি স্পেশাল কোনো মেকানিজম তৈরি করে না দেয় অর্থাৎ সহজ পথ তৈরি করে না দেয় তাহলে হুমকিতে পড়ব আমরা। বহু ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফান্ড তৈরি হয়েছে। আমাদের সরকারও সেভাবে কিছু একটা করতে পারেন।
সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, প্রথমত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে আমাদের যে কিস্তি আছে তা আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। এটার জন্য ঋণখেলাপি করা যাবে না। সুদটাও যেন স্থগিত থাকে। করোনা বৈশ্বিক একটা সঙ্কট। সুতরাং দেশীয় ব্যাংকগুলো যেন এই বিষয়টা বিবেচনায় রাখে। শ্রমিককেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিল্প খাতকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সামনে ঈদ এবং পয়লা বৈশাখ। সুতরাং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য হলেও সরকারের তরফ থেকে আমাদের ফান্ড দিতে হবে। এ ছাড়া আগামী ছয় মাস গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল জমা না পড়লে লাইন কাটা যাবে না। বকেয়া থাকলে জরিমানা যেন দিতে না হয়। এই বিষয়গুলো সরকারকে নজর দিতে হবে।
বিকেএমইএ’র সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, কারখানা বন্ধ করলে শ্রমিক বেকার হবে, তাতে অস্থিরতা বাড়বে। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি কারখানায় চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। শ্রমিকদের মনোবল বাড়াতে কাজ করতে হবে।
সেলিম ওসমান বলেন, সামনে রোজা এবং ঈদ আসছে। সে কারণে আপাতত বেতন বোনাসের প্রস্তুতি নেয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ হোসিয়ারি সমিতির সভাপতি নাজমুল আলম সজল বলেন, আমাদের দৈনিন্দন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রী চীন থেকে আনা হয়। কিন্তু বিগত ২-৩ মাস যাবত আমদানি বন্ধ হওয়ার কারণে শিল্পখাতসহ সারা দেশের বিভিন্ন কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে করোনার প্রভাব সেটা শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় গোটা দেশের। সমগ্র দেশই ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সমাধান হচ্ছে, করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা এবং নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
বাংলাদেশ ইয়ান মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা বলেন, করোনার কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ হওয়ায় মোটামুটি ভালোই প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়। আগামী এক থেকে দেড় মাস এর প্রভাব আরো থাকবে। রোগ নিরাময়ের পরিপূর্ণ সমাধান পেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, আমাদের দেশের প্রায় সব সামগ্রী চীন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয়। গত ২ মাস যাবত আমাদের এই আমদানি বন্ধের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতোমধ্যেই হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। আরো সময় গেলে হয়তো এ অবস্থা তীব্র আকার ধারণ করবে।

 


আরো সংবাদ

বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস করানো এসিল্যান্ডকে একহাত নিলেন আসিফ নজরুল (২৫১২৪)করোনার বিরুদ্ধে লড়াকু ‘বীর’ চিকিৎসক যে ভয়াবহ বার্তা দিয়েই মারা গেলেন (২৪৫০৫)ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর করোনার খবরে পেছনের দরজা দিয়ে পালালেন উপদেষ্টা (ভিডিও) (১৪৩৬৩)অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আর নেই (১২১৬৯)মুক্ত খালেদা জিয়ার সাথে দেখা হলো না সানাউল্লাহর (৯৭৮৪)কান ধরে উঠবস করানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার (৯৭০৮)করোনার ওষুধ আবিষ্কারের দাবি ডুয়েটের ৩ গবেষকের (৯১৭৪)প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার বলি মেয়ে (৮৯০১)করোনার আক্রমণে করুণ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের (৮৭৮৩)মোদি-যোগির রাজ্যে ক্ষুধার জ্বালায় ঘাস খাচ্ছে শিশুরা (৮৫৯৭)