০২ এপ্রিল ২০২০

সরকারের করুণ পরিণতি হবে মওদুদ

জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মওদুদ আহমদ হ নয়া দিগন্ত -

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দ্বিতীয় দফায় খারিজ হওয়ার পরদিন গতকাল শুক্রবার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি যদি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভবপর না হয় তাহলে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। এই আন্দোলন শুধু মুখে বললে চলবে না, এটা কার্যকর করতে হবে। এমন কর্মসূচি দিতে হবে যে কর্মসূচি আমরা দৃঢ়ভাবে পালন করতে পারব।
দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, এ জন্য আমাদের তরুণ সমাজ- ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল যারা আমাদের সংগঠনে আছে তাদেরকে যদি আমরা সংগঠিত করতে না পারি, তারা যদি আন্দোলন করতে না পারে তাহলে আন্দোলন হবে না। আন্দোলন করতে হলে আমাদের ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, আরো সংগঠিত করতে হবে এবং তাদেরকে ময়দানে নামতে হবে।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক কারণেই তাকে জামিন দেয়া হয় নাই। এটা সকলে বোঝে। আইনে আছে কোনো আসামি যদি মহিলা হন, তিনি যদি অসুস্থ থাকেন, তিনি যদি বয়স্ক হন তাহলে তাকে জামিন দিতে হবে। ৪৯৭ নম্বর ধারা ও আইনে এই বিধান রয়েছে। আইন কে তোয়াক্কা করে? মানবিক কারণেও তাকে মুক্তি দিতেও তারা রাজি নয়। তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ এবং দুই বছরে তার শরীরে আর কিছু বাকি নাই।
মওদুদ আহমদ বলেন, আমি আদালতে সবার সামনে বলেছি, মোহাম্মদ আলী বলে আমাদের একজন আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্টে, খুব ভালো ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। আমাদের অনেককেসহ তাকে একটা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে তার জামিন নাকচ করা হয়েছে। তারপরে তিনি হার্টফেল করে মারা গেছেন। আমাদের শ্রমিকদলের নেতা বাকেরের জন্য আমরা গেলাম, হাইকোর্ট জামিন দিলেন কিন্তু আপিলেট ডিভিশন তা বন্ধ করে দিলো। পরে জেলখানায় তার মৃত্যু হলো। আদালতকে আমি এটা স্মরণ করিয়ে দিলাম, কে ঝুঁকি নেবে? বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যে অবস্থা, আর সরকারের যে অবহেলা এবং তাদের যে মনোভাব, যদি কোনো অঘটন ঘটে এর বিচার করবে কে, এর দায়িত্বে কে নেবে? আমি বলতে চাই, সরকারকেই এই দায়িত্বটা নিতে হবে। কিন্তু তারা এগুলো চিন্তা করে না, এগুলো ভাবেও না। তাদের মন মতো করে দেশ চালাবেন- এটাই তাদের ইচ্ছা।
সরকারের করুণ পরিণতি হবে মন্তব্য করে মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদেরকে নিরাশ হলে চলবে না। আমরা অনেক দেখেছি পৃথিবীতে অনেক দেশে কর্তৃত্ববাদ, স্বৈরাচার সরকারের আবির্ভাব ঘটেছে, বাংলাদেশেও ঘটেছে। কিন্তু তারা টিকে নাই। এই সরকারও টিকবে না। যেতে হবে- এটা সময়ের ব্যাপার। এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। এই সরকারের পতন এমন করুণ হবে যে তারা অনুমান করতে পারলেও, অনুমান করতে পারে বলেই তারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, তারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। তারা জানে না এই পরিণতি কত করুণ হবে। তাদের নিজেদের তখন রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাংলাদেশের মাটিতে থাকবে কতটুকু, সেটা থাকবে বলে আমি মনে করি না। কারণ এত অত্যাচার-নিপীড়ন, এত জেল-জুলুম, আমাদের প্রায় ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, তাদের কত পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, আমাদের কত নেতাকর্মী পঙ্গু হয়ে গেছে এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পরিবার অসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় আছে। এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি নাই, দেশে গণতন্ত্র নাই। দেশে যখন গণতন্ত্র নাই তখন দেশে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে যেটা আমরা বুঝাই সেটাও নাই। আজকে মানুষের মধ্যে একটা ভয়-ভীতি-আতঙ্ক, মানুষ মুক্তমনে কথা বলতে চায় না, কথা বলতে পারে না। আজকে মিডিয়ার ভাইয়েরা এখানে যারা আছেন তারা ভালো করে জানেন, কি ধরনের নিয়ন্ত্রণ চলছে। মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ, সর্বক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক একটি সরকার বাংলাদেশে এখন আছে।
সভা-সমাবেশে সরকারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, সামান্য সভা, ঘরের মধ্যে সভা করতে নাকি অনুমতি লাগে ... ...। আমরা যদি বাইরে মিটিং করি সেটার জন্যও অনুমতি নিতে হয়। অতীতে কোনো দিনই এটা ছিল না, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা হয় না। যদি আমরা সভা করি পুলিশকে অবহিত করব। যাতে করে আমরা সুষ্ঠুভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সভাটা করতে পারি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 


আরো সংবাদ