০৬ এপ্রিল ২০২০

রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৭ হাজার টাকা কি তারা পাচ্ছেন?   কক্সবাজারে এনজিও ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

-

রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং একটি একক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) সমন্বিত সংগঠন কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)। তারা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৭ হাজার টাকা তারা ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না তার কোনো হিসাব নেই। গতকাল কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এনজিও এবং সুশীলসমাজের এই নেটওয়ার্ক জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপিতে) সরকারের খরচ ও প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য এই পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৪১ ডলার বা গড়ে ৩৭ হাজার টাকা বিদেশী এনজিওদের মাধ্যমে এসেছে। এই অর্থের কত অংশ প্রত্যক্ষভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালনা খাতে আর কত অংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব ব্যয় হয়েছে তার স্বচ্ছতা দাবি করা হয়। সিসিএনএফের কো-চেয়ার ও এনজিও সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থার অন্যতম কো-চেয়ার এবং এনজিও সংস্থা পালসের পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী, মুক্তির কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক বিমল চন্দ্র দে সরকার এবং হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম। কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ত্রাণ কর্মসূচিতে জাতিসঙ্ঘ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত এবং সেই সাথে স্থানীয় এনজিও এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, কক্সবাজারে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সফরের সময় স্থানীয় এনজিও এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সংযুক্ত থাকা প্রয়োজন, কেননা তারা ওই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে স্থানীয় সমস্যা ও চাহিদাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারে আসা গ্র্যান্ড বার্গেইন মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কক্সবাজারে ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) কার্যক্রমে বাংলাভাষার প্রচলন করা এখন সময়ের দাবি। কক্সবাজারে কর্মরত জাতিসঙ্ঘের সব অঙ্গ সংস্থা এবং বিদেশী সংস্থাগুলোর (আইএনজিও) উচিত গ্র্যান্ড বারগেন, চার্টার ফর চেঞ্জ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক দলিলগুলোর প্রতি সম্মান করা। পালসের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা পরিকল্পনা বা জেআরপিতে শান্তি বিনির্মাণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, কিশোর কিশোরী ও যুবসমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আলাদা সেক্টর হিসেবে রাখতে হবে। তিনি বলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহীত সব প্রকল্প পরীক্ষা করে দেখতে হবে, যেন মোট বাজেটের ২৫ ভাগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। মুক্তি নামে অপর এনজিও সংস্থা কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, রোহিঙ্গা ত্রাণ ব্যবস্থাপনাকে একটি একক কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালিত হওয়ার স্বার্থে আরআরআরসি কার্যালয়ের সাথে আইএসসিজিকে একীভূত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে জেলার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান সঙ্কট এবং সমস্যা বিবেচনা করে তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তাগণ দাবি করেন যে, জেআরপি তৈরিতে জড়িত এনজিওগুলো বাংলাদেশ সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করে যাচ্ছে। ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমের মতো সংস্থাগুলো কী পরিমাণ অর্থ আনছে এবং কী পরিমাণ রোহিঙ্গাদের জন্য খরচ করছেন তা কেউ জানতেও পারছেন না। তাদের মতে, রোহিঙ্গা ত্রাণ কর্মসূচিতে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে প্রদত্ত বেতন বিদ্যমান বাংলাদেশী এনজিও বেতন কাঠামো থেকে দুই শত সাতষট্টি ভাগ বেড়ে গেছে যা যুক্তিসঙ্গত নয়। এটি সংশোধন করে একটি সাধারণ বেতন কাঠামো প্রস্তুত করা উচিত যাতে ন্যূনতম অর্থসহায়তা থাকলেও সমস্যা না হয়।

 


আরো সংবাদ