১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

থানায় জিডির ভিত্তিতে দুদকের তদন্ত করার ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

-

দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) থানায় এজাহার দাখিল এবং ওই এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত করার ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ (সংশোধনী ২০১৯) এর ১(২) (ঘঘ)(ছ), ৪, ৯(ক), ১০ নম্বর বিধি ও ফরম-২খ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস ও ব্যারিস্টার নওশীন নাওয়াল এই রিট আবেদন দাখিল করেছেন। তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইউম খান ও মমতাজ পারভীন রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে আইন, স্বরাষ্ট্র ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজি ও দুদক সচিবকে বিবাদি করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস সাংবাদিকদের জানান, দুদক বিধিমালার ওই বিধি কটি সংবিধানের ৩১, ৬৫(১) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার পরিপন্থী।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তির অভিযোগ থানা রেকর্ড করতে বাধ্য। কিন্তু দুদকের ওই বিধিামালার কারণে এখন আর থানা দুর্নীতিসংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি মামলা রেকর্ড করতে পারে না। কেবলমাত্র জিডি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। থানা অভিযোগ (জিডি) পাঠিয়ে দেয় দুদকে। এই জিডির ভিত্তিতে অনুসন্ধানের পর দুদক মামলা করে। রিট আবেদনকারীর দাবি, এই বিধিমালার মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধিতে একজন নাগরিককে দেয়া ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মামলা করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে।
দুদক নিজেই মামলা করার ক্ষমতাসংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ সংশোধন করে গত ২০ জুন গেজেট জারি করে। এই বিধিমালার ৪ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো নাগরিক থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট থানা ওই অভিযোগ পাওয়ার পর তা জিডি হিসেবে গ্রহণ করে দুদকে পাঠিয়ে দেবে। ১০ নম্বর বিধিতে দুদককে তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

 


আরো সংবাদ