৩০ মে ২০২০
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন মামলা

স্ত্রীসহ গোয়ালন্দ থানার সাবেক ওসির কারাদণ্ড

-

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার সাবেক ওসি ও তার স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি বিশেষ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গোয়ালন্দ থানার সাবেক ওসি সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনু।
গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম গোয়ালন্দ থানার সাবেক ওসি সাইফুল ইসলামকে সাত বছর ও তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে দুই বছরের সাজা দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাইফুল ইসলামকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার স্ত্রীকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের আরেক মামলায় সাইফুল ইসলামকে পৃথক দুই ধারায় আরো সাত বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলায় দুদক কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় দুই বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং দুদক কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে। পৃথক তিন ধারায় সাইফুল ইসলামের কারাদণ্ডাদেশ একসাথে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে ও তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে আসামি করে ২০১০ সালের ২২ জুন রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোজাহার আলী সরদার। এজাহার থেকে জানা যায়, দুদক সাইফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীকে সম্পদের ব্যাপারে নোটিশ জারি করে। ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাইফুল ইসলাম নিজ নামে, স্ত্রী ও পোষ্যদের নামে অর্জিত সর্বমোট ৪২ লাখ ৫৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদ গোপন করে কমিশনে তথ্য দেন। আর জাকিয়া ইসলাম ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার তথ্য কমিশনে জমা দেন। ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ৭৮৬ টাকার যথার্থ উৎস না থাকায় এবং বিপুল জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ নিজ দখলে রাখার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সম্পদ গোপন করে কমিশনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৯২৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন অভিযোগে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই দিন মোজাহার আলী সরদার মামলাটি দায়ের করেন। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট আদালত দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।

 


আরো সংবাদ